ভারতের সংবিধান অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন দেশের সবচেয়ে বড় আইন কর্মকর্তা। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান আইন উপদেষ্টা এবং সরকারের আইনি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। যেহেতু এই পদটি সরাসরি সংবিধানে বলা আছে, তাই এটি একটি সাংবিধানিক পদ।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৬-এ অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা বলা হয়েছে। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাহী বিভাগের সদস্য। তবে তিনি মন্ত্রীপরিষদের সদস্য নন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ ও যোগ্যতা:
অ্যাটর্নি জেনারেলকে ভারতের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন।
এই পদে নিযুক্ত হতে হলে –
- তাঁকে ভারতের নাগরিক হতে হবে,
- কমপক্ষে ৫ বছর হাইকোর্টের বিচারক হতে হবে, অথবা
- ১০ বছর হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে হবে, অথবা
- রাষ্ট্রপতির মতে একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ হতে হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যকাল ও অপসারণ:
সংবিধানে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যকাল নির্দিষ্ট নয়। তিনি রাষ্ট্রপতির ইচ্ছানুসারে পদে থাকেন এবং রাষ্ট্রপতি চাইলে যেকোনো সময় তাঁকে অপসারণ করতে পারেন। সাধারণত নতুন সরকার গঠিত হলে অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব ও কাজ:
অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রধান কাজগুলো হলো—
- সরকারের আইনসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া।
- সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে মামলা লড়া।
- সংবিধান বা রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অনুযায়ী আইনি দায়িত্ব পালন করা।
- রাষ্ট্রপতি চাইলে Article 143 অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে সরকারের পক্ষ নেওয়া।
অ্যাটর্নি জেনারেলের অধিকার:
- তিনি ভারতের সব আদালতে বক্তব্য রাখার অধিকার রাখেন।
- সংসদের দুই কক্ষের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে পারেন (তবে ভোট দিতে পারেন না)।
- সংসদ সদস্যদের মতো বিশেষাধিকার ভোগ করেন।
সীমাবদ্ধতা:
- অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নিতে পারেন না।
- তিনি সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো অপরাধ মামলায় অভিযুক্তের পক্ষে লড়তে পারেন না।
- তাছাড়া কোনো কোম্পানির পরিচালক পদেও থাকতে পারেন না।
অ্যাটর্নি জেনারেলের বেতন ও কার্যালয়:
অ্যাটর্নি জেনারেলের বেতন রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করেন। তাঁর কার্যালয় নয়া দিল্লিতে অবস্থিত।
অ্যাটর্নি জেনারেলের সহায়ক পদ:
অ্যাটর্নি জেনারেলকে সাহায্য করেন সলিসিটার জেনারেল ও অ্যাডিশনাল সলিসিটার জেনারেলরা। তবে এই পদগুলো সংবিধানিক নয়, বরং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তৈরি।
উপসংহার:
অ্যাটর্নি জেনারেল ভারতের আইনি ব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ। তিনি সরকারের পক্ষে আদালতে মামলা লড়েন, আইনি পরামর্শ দেন এবং সংবিধান ও আইনের মর্যাদা রক্ষা করেন। তাঁর কাজের মাধ্যমে দেশের ন্যায়বিচার ও শাসনব্যবস্থা আরও মজবুত হয়।