বাস্তুতন্ত্র কী? বাস্তুতন্ত্রের (Ecosystem) সম্পর্কে আলোচনা: Discussion about the ecosystem.
ভূমিকা:
প্রকৃতি একটি সুসংগঠিত ও পারস্পরিক নির্ভরশীল ব্যবস্থার উপর প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর প্রতিটি জীব—উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব—এবং পরিবেশের অজৈব উপাদান যেমন জল, বায়ু, মাটি, আলো ও তাপ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। এই পারস্পরিক সম্পর্ক ও মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে যে সুসমন্বিত প্রাকৃতিক তন্ত্র গড়ে ওঠে তাকে বাস্তুতন্ত্র বা Ecosystem বলা হয়। ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পরিবেশবিদ Arthur George Tansley প্রথম “Ecosystem” শব্দটি প্রবর্তন করেন।
বাস্তুতন্ত্র কেবল জীবের সমষ্টি নয়; এটি একটি কার্যকর ও গতিশীল ব্যবস্থা যেখানে শক্তির প্রবাহ এবং পুষ্টির চক্র অবিরাম চলতে থাকে। সূর্য হলো বাস্তুতন্ত্রের প্রধান শক্তির উৎস। সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে এবং এই খাদ্যশক্তি ধাপে ধাপে বিভিন্ন খাদক স্তরে সঞ্চারিত হয়। এভাবেই প্রকৃতিতে খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল গঠিত হয়।
বর্তমান যুগে শিল্পায়ন, নগরায়ন, বনভূমি ধ্বংস এবং পরিবেশ দূষণের ফলে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের হ্রাস এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অবক্ষয় আমাদের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তাই বাস্তুতন্ত্রের গঠন, উপাদান ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
বাস্তুতন্ত্রের সংজ্ঞা (Defination of Ecosystem):
যে বিশেষ পদ্ধতিতে কোনো বসতি স্থানে অবস্থিত জীবগোষ্ঠীগুলি একে অপরের সঙ্গে এবং এই বসতি অঞ্চলের অজৈব পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে একটি সুস্থিত তন্ত্র গঠন করে, সেই সুস্থিত তন্ত্র গঠনের ক্রিয়া পদ্ধতিকে বাস্তুতন্ত্র বলে।
1935 সালে ব্রিটিশ বাস্তু পরিবেশবিদ এ. জি. ট্রান্সলে (A. G. Tansley) সর্বপ্রথম ‘Ecosystem’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
নির্দিষ্ট পরিবেশে জড় ও জীবের পারস্পারিক আন্তঃক্রিয়ার পদ্ধতিকে বাস্তুতন্ত্র বলে।
বাস্তুতন্ত্রের ধর্ম (Properties):
- একটি নির্দিষ্ট এলাকা থাকে।
- একে সময়গত এককে পরিমাপ করা হয়।
- বাস্তুতন্ত্র এক মুক্ত প্রণালীর (Open ended) অন্তর্গত।
- বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ একমুখী।
- বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সৌরশক্তিই প্রধান।
এক নজরে বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্ন (Ecological Foot Print):
1992 সালে প্রথম বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্নের অ্যাকাডেমিক ধারণা দেন উইলিয়াম রিস (William Rees)। বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্নের ধারণা এবং তার হিসাবের পদ্ধতি দেন ম্যাথিস ওয়াকারনাগেল (Mathis Wackernagel)। পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র থেকে মানুষ তার নিজস্ব চাহিদা মেটায় অর্থাৎ প্রতি বছরে যতটা পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ মানুষ নিজের জন্য ব্যবহার করে তার পরিমাপই হল ‘বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্ন’।
জীবগোষ্ঠী (Community):
একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন জীবের সামগ্রিক অধিবাসীকে জীবগোষ্ঠী (Community) বলে।
10% Law:
1942 সালে বিজ্ঞানী লিন্ডেম্যান 10% সূত্রটি উদ্ভাবন করেন। এই সূত্রে তিনি বলেছেন বাস্তুতন্ত্রে প্রতিটি খাদ্যস্তরে 10% শক্তি দেহ গঠনের কাজে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ একটি মাছ যদি 1000 গ্রাম সবুজ উদ্ভিদ খায় তাহলে ওই খাদ্যবস্তুর 10% অর্থাৎ 100 গ্রাম তার দেহ গঠনের কাজে লাগে।
বায়োটোপ (Biotope):
বায়োটোপ বলতে এমন একটি বাসভূমিকে বোঝানো হয় যার জলবায়ু, মৃত্তিকা এবং অবস্থানগুলি সমসত্ত্ব।
জীবমন্ডল (Biosphere):
সমুদ্র-তলদেশের যে স্তর থেকে শুরু করে বায়ুমন্ডলের ঊর্ধ্বে যে স্তর পর্যন্ত জীবের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় সেই সামগ্রিক অঞ্চলটিকে জীবমণ্ডল বলে।
বিস্তৃতি: জীবমন্ডল মাটির নীচে প্রায় 10 মিটার গভীরতা পর্যন্ত, সমুদ্রের গভীরের প্রায় 200 মিটার পর্যন্ত এবং ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে বায়ুমণ্ডলের প্রায় 300 মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকোর ভূমধ্যসাগরীয় গাছপালাকে চ্যাপারেল বলে।
চ্যাপারেল বায়োমকে ‘Sclerophyllous‘ বা শক্তপাতা যুক্ত বায়োম বলা হয়।
নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি বায়োম, নিউজিল্যান্ডে ক্যান্টারবেরি নামে পরিচিত।
আফ্রিকার ক্রান্তীয় পার্বত্য অঞ্চলের এলফিন বনভূমিকে বামন বনভূমি বলা হয়।
জীবনবৈচিত্রের প্রাচুর্যতা বেশি থাকার জন্য ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য বায়োমকে পৃথিবীর ফুসফুস (Lung of the World) বলা হয়।
ইকোটোন (Ecotone):
দুটি বাস্তুতন্ত্রের মধ্যবর্তী অঞ্চল যেখানে পরিবর্তন ধীরে ধীরে হয় সেই অঞ্চলটিকে ইকোটোন বলে। এখানে প্রজাতির বৈচিত্র্য বেশি হয়।
ইকোক্লাইন (Ecocline):
দুটি বাস্তুতন্ত্রের অন্তঃভাগ থেকে প্রান্তভাগ এবংপার্শ্ববর্তী বাস্তু তন্ত্রের প্রান্তভাগ থেকে অন্তঃভাগ পর্যন্ত জীব সম্প্রদায়ের যে পরিবর্তন তাকেই ইকোক্লাইন বলে।
এজ এফেক্ট (Edge Effect):
পার্শ্ববর্তী বায়োমের তুলনায় ইকোটোনে জীবের সংখ্যা ও গঠন পরিবর্তন হয়, এই ঘটনাকে এজ এফেক্ট বলে।
বায়োটা (Biota):
কোন নির্দিষ্ট স্থানের সকল প্রজাতির জীবকে বায়োটা বলে।
বাস্তুতন্ত্রের উপাদান (Components of Ecosystem):
বাস্তুতন্ত্রের কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানী ওডান (1966) বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করেন। এরা যথাক্রমে-
- কার্যভিত্তিক উপাদান।
- সাংগঠনিক উপাদান।
আবার গঠনগতভাবে বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহকে নিম্নলিখিত উপায়ে ভাগ করা যায়-

কার্যভিত্তিক উপাদন:
স্বভোজী উপাদান:
যে সকল জীব নিজেদের খাদ্য নিজেরাই উৎপন্ন করতে পারে তাদের স্বভোজী উপাদান বলে। কয়েকটি প্রাণি (যেমন-ইউগ্নিনা), ছাড়া ক্লোরোফিল যুক্ত সকল উদ্ভিদেরই এই ক্ষমতা বর্তমান। ক্লোরোফিল বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্রহণ করে এবং সূর্যালোক ও মূলরোম দ্বারা শোষিত জলের সাহায্যে সালোক সংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় জটিল শর্করা খাদ্য তৈরি করে।
6CO₂ + 12H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂ + 6H₂O
গ্লুকোজ (CH12O6) ছাড়াও প্রোটিন, অ্যামাইনো অ্যাসিড ইত্যাদি প্রয়োজনীয় উপাদনসমূহ সংশ্লেষিত হয়। অর্থাৎ পৃথিবীর সকল সবুজ উদ্ভিদই বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদক।
পরভোজী উপাদান:
যে সকল জীব নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না, পরন্তু খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল তাদের পরভোজী বলে। কিছু ক্লোরোফিল বিহীন উদ্ভিদ এবং সকল প্রাণিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপাদকের উপর খাদ্যের জন্য নির্ভরশীল।
সাংগঠনিক উপাদান:
নির্জীব উপাদন:
পরিবেশের সকল জড় উপাদান এর অন্তর্গত। এই উপাদানসমূহকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায়-
- অজৈব উপাদান: জল, মাটি, বিভিন্ন খনিজ লবণ, গ্যাসীয় পদার্থ বাস্তুতন্ত্রের অজৈব উপাদান। সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুতিতে এই সকল উপাদানসমূহকে ব্যবহার করে।
- জৈব উপাদান: মৃত উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহের বিভিন্নরকম জৈববস্তুর পচনের ফলে উদ্ভুত পদার্থসমূহ, যেমন- প্রোটিন, ফ্যাট, ইউরিয়া, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি পরিবেশের জৈব উপাদানের অন্তর্গত।
- ভৌত উপাদান: সৌরশক্তি, তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ, আলো, আর্দ্রতাইত্যাদি পরিবেশের ভৌত উপাদান। যে কোনো বাস্তুতন্ত্রের প্রয়োজনীয় শক্তির একমাত্র উৎস সূর্যালোক।
সজীব উপাদান:
বাস্তুতন্ত্রের সকল জীবই এই উপাদানের অন্তর্গত। এই উপাদানসমূহকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়-
- উৎপাদক: যে সকল ক্লোরোফিলযুক্ত জীব সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় তার নিজের দেহে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে তাদের উৎপাদক বলে। যেমন- ক্লোরোফিলযুক্ত সবুজ উদ্ভিদ। সকল প্রাণিই জীবনধারণের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল।
- খাদক: যে সকল জীব সালোকসংশ্লেষে অক্ষম এবং খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল তাদের খাদক বলে। প্রধানত তিন শ্রেণির খাদক বাস্তুতন্ত্রে পরিলক্ষিত হয়।
- প্রথম শ্রেণির খাদক: যে সকল প্রাণি তাদের জীবন ধারণের জন্য সরাসরি উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল তাদের প্রথম শ্রেণির খাদক বলে। যেমন- শামুক, তৃণভোজী মাছ, গোরু, ছাগল, হরিণ ইত্যাদি।
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক: যে সকল প্রাণি খাদ্যের জন্য প্রথম শ্রেণির খাদকের উপর নির্ভরশীল তাদের গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক বলে। যেমন- নেকড়ে, বিভিন্ন পতঙ্গভুক পাখি ইত্যাদি।
- সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদক: যে সকল প্রাণি তাদের খাদ্যের জন্য প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদকের উপর নির্ভরশীল তাদের সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদক বলে। যেমন- বাঘ, সিংহ, মানুষ ইত্যাদি।
| স্তর | উদাহরণ |
|---|---|
| প্রথম শ্রেণি | গোরু, হরিণ, ছাগল |
| দ্বিতীয় শ্রেণি | ব্যাঙ, নেকড়ে |
| সর্বোচ্চ শ্রেণি | বাঘ, সিংহ, মানুষ |
বিয়োজক: যে সকল অণুজীব মৃত উৎপাদক এবং খাদ্যের দেহাবশেষকে বিয়োজিত করে বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদকের পুনঃব্যবহারযোগ্য জৈব বস্তুতে রূপান্তরিত করে তাদের বিয়োজক বলে। যেমন- বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক।
ট্রপিক লেভেল, খাদ্যশৃঙ্খল, খাদ্য জালক ও খাদ্য পিরামিড (Trophic level, Food Chain, Food Web and Food Pyramid):
উদ্ভিদ ও প্রাণির পারস্পরিক সম্পর্কের কথা জানতে হলে পুষ্টি স্তর, খাদ্যশৃঙ্খল, খাদ্য, জালক, খাদ্য পিরামিড ও ইকোসিস্টেমের শক্তিপ্রবাহ প্রভৃতি সম্বন্ধে বিশেষভাবে জ্ঞান আহরণ করা প্রয়োজন।
ট্রপিক স্তর:
ইকোসিস্টেমের অন্তর্গত কোনো সদস্য জীব খাদ্যশৃঙ্খলের যে খাদ্যস্তরে অবস্থান করে সেই খাদ্যস্তরকে ওই খাদ্যশৃঙ্খলের সংরক্ষিত তল বা ট্রপিক লেভেল বা পুষ্টি স্তর বলে। একটি খাদ্যশৃঙ্খলে দুই বা ততোধিক ট্রপিক লেভেল থাকতে পারে। উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ) খাদ্যশৃঙ্খলের সূচনা করে, তাই এই স্তরকে প্রথম ট্রপিক লেভেল বলা হয়।
খাদ্যশৃঙ্খল:
খাদ্য খাদকের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট প্রণালীতে খাদ্যশক্তি উৎপাদকের কাছ থেকে ক্রমপর্যায়ে আরো উন্নত জীবগোষ্ঠীর মধ্যে প্রবাহিত হয়। শক্তি প্রবাহের এই ক্রমিক পর্যায়কে খাদ্যশৃঙ্খল বলে।
বিজ্ঞানী ওডামের মতে, উৎপাদক কর্তৃক আবদ্ধ শক্তি পরপর বিভিন্ন খাদ্যস্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সর্বোচ্চ খাদ্যস্তরে পৌঁছানোর শৃঙ্খলকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে। উদাহরণস্বরূপ একটি মিষ্টি জলের খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে শক্তিপ্রবাহের নীচে দেখান হল।
বাস্তুতন্ত্রে সাধারণত নিম্নলিখিত তিন প্রকার খাদ্যশৃঙ্খল দেখা যায়। যেমন-
শিকারি খাদ্যশৃঙ্খল (Predator food chain):
এই শৃঙ্খল উৎপাদক থেকে শুরু হয় এবং এর পরবর্তী পর্যায়গুলিতে জীবের আকার ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং একই সঙ্গে তাদের সংখ্যাও হ্রাস পায়।
উদাহরণ- ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন → কীট → ব্যাঙ → সাপ → বাজপাখি
পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল (Parasitic food chain):
এই শৃঙ্খল বৃহৎ জীব থেকে আরম্ভ হয়ে ক্রমপর্যায়ে ক্ষুদ্র পরজীবীতে শেষ হয়।
উদাহরণ- মানুষ → কৃমি → আদ্যপ্রাণি
মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল (Saprophytic food chain):
এই শৃঙ্খল মৃতজীবী থেকে আরম্ভ হয়ে ব্যাকটেরিয়াতে শেষ হয়।
উদাহরণ- মৃত → উদ্ভিদ → ছত্রাক ব্যাকটেরিয়া
খাদ্য জালক:
বাস্তুতন্ত্রের শক্তি ও বস্তু অসংখ্য আন্তঃসম্পর্কযুক্ত খাদ্য শৃঙ্খলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়। এইভাবে সংযুক্ত খাদ্যশৃঙ্খলগুলিকে খাদ্য জালত বলে।
নিম্নে প্রেইরি তৃণভূমির একটি খাদ্য জালক চিত্রসহ দেখান হল-
বাজপাখি
↑
ঘাস → ঘাসফড়িং → ব্যাঙ
↘ ↗
চড়াই
খাদ্য পিরামিড:
এই নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন পুষ্টিতন্ত্রের বিভিন্ন পুষ্টিতন্ত্রের সামগ্রিক গঠনকে অনুক্রমিকভাবে সাজালে যে পিরামিড বা শিখর গঠিত হয় তাকে খাদ্য পিরামিড বলে। ব্রিটিশ ইকোলজিস্ট চার্লস এলটন (1927) সর্বপ্রথম এই পিরামিড সম্পর্কে ধারণা দেন- (1) সংখ্যা পিরামিড, (2) শক্তির পিরামিড, (3) জীবভর পিরামিড।
- সংখ্যা পিরামিড: উৎপাদক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের খাদক পর্যন্ত জীবের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। এরূপে সৃষ্ট পিরামিডকে সংখ্যা পিরামিড বলে।
পাশে একটি সংখ্যার পিরামিড দেখানো হল-

এখানে ডায়াটম, ডিনোফ্ল্যাজেলেট্স ও ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের সংখ্যা অনেক বেশি (উৎপাদক)। প্রথম শ্রেণির খাদক যেমন- ক্রাস্টেসিয়ান-এর সংখ্যা উৎপাদকের সংখ্যা থেকে কম। আবার দ্বিতীয় শ্রেণির খাদকের (তিমি) সংখ্যা সব থেকে কম।
শক্তির পিরামিড: একটি খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি খাদ্যস্তরে (উৎপাদক থেকে সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদক পর্যন্ত) সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যে পিরামিড সৃষ্টি করে তাকে শক্তির পিরামিড বলে।
একটি শক্তির পিরামিডের চিত্র নিচে দেখান হল-

জীবভর পিরামিড: একটি খাদ্যশৃঙ্খলের প্রত্যেক স্তরের সজীব বস্তুর শুষ্ক ওজনকে জীবভর বলে। দেখা যায় উৎপাদকের জীবভর থেকে প্রাথমিক স্তরের খাদকের জীবভর কম হয়, আবার প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় ভর, দ্বিতীয় স্তর থেকে তৃতীয় স্তরে জীবভর ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। এইভাবে সৃষ্ট শক্তির সঞ্চয়ের প্রবাহ ক্রমান্বয়ে হ্রাসপিরামিডকে জীবভরের পিরামিড বলে।
নিচে একটি জীবভরের পিরামিড দেখান হল-

উপসংহার:
বাস্তুতন্ত্র প্রকৃতির এক চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা যেখানে জীব ও অজীব উপাদান পরস্পরের উপর নির্ভরশীল হয়ে একটি সুস্থিত পরিবেশ গঠন করে। উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজকের সমন্বয়ে শক্তির প্রবাহ ও পুষ্টির পুনঃচক্রায়ন সম্পন্ন হয়। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে।
বাস্তুতন্ত্রের প্রতিটি উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্তরে সামান্য পরিবর্তন ঘটলেও তার প্রভাব পুরো ব্যবস্থার উপর পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, বনভূমি ধ্বংস হলে শুধু উদ্ভিদ নয়, সংশ্লিষ্ট প্রাণীজগৎ এবং স্থানীয় জলবায়ুও পরিবর্তিত হয়। ফলে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়।
বর্তমান সময়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মানুষ প্রকৃতির একটি অংশমাত্র—প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী নয়। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের মনোভাব গড়ে তোলা।
সর্বোপরি বলা যায়, বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা মানেই মানব সভ্যতার সুরক্ষা। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলাই হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব।
বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে MCQ
1. নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলি বিবেচনা করো:
- শক্তির পিরামিড সর্বদা সোজা হয়।
- জীবভর পিরামিড কখনও কখনও উল্টো হতে পারে।
- সংখ্যা পিরামিড সব ক্ষেত্রে সোজা হয়।
সঠিকটি নির্বাচন করো—
A) 1 ও 2
B) 2 ও 3
C) 1 ও 3
D) 1, 2 ও 3
উত্তর: A
2. 10% সূত্র সম্পর্কে সঠিকটি হলো—
A) শক্তির 10% পরবর্তী স্তরে যায়
B) জীবভরের 10% নষ্ট হয়
C) শক্তির 90% স্থানান্তরিত হয়
D) শক্তি সম্পূর্ণ সংরক্ষিত থাকে
উত্তর: A
3. নিম্নের কোনটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান?
- সৌরশক্তি
- তাপমাত্রা
- প্রোটিন
A) 1 ও 2
B) 2 ও 3
C) 1 ও 3
D) 1, 2 ও 3
উত্তর: A
4. ইকোটোন অঞ্চলে প্রজাতি বৈচিত্র্য বেশি হওয়ার কারণ—
A) প্রতিযোগিতা কম
B) দুই ভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের সংযোগ
C) তাপমাত্রা বেশি
D) বৃষ্টিপাত বেশি
উত্তর: B
5. সঠিক মিলটি নির্বাচন করো:
| তালিকা I | তালিকা II |
|---|---|
| (a) A.G. Tansley | (1) 10% সূত্র |
| (b) Lindeman | (2) Ecosystem |
| (c) Charles Elton | (3) Food Pyramid |
সঠিক মিল—
A) a-2, b-1, c-3
B) a-1, b-2, c-3
C) a-2, b-3, c-1
D) a-3, b-1, c-2
উত্তর: A
6. Biosphere-এর বিস্তৃতি সম্পর্কে সঠিকটি—
- সমুদ্রের প্রায় 200m গভীর পর্যন্ত
- মাটির নিচে প্রায় 10m পর্যন্ত
- বায়ুমণ্ডলে প্রায় 300m পর্যন্ত
A) 1 ও 2
B) 2 ও 3
C) 1 ও 3
D) 1, 2 ও 3
উত্তর: D
7. Parasitic food chain শুরু হয়—
A) উৎপাদক থেকে
B) বৃহৎ জীব থেকে
C) মৃত পদার্থ থেকে
D) অণুজীব থেকে
উত্তর: B
8. খাদ্য জালক খাদ্যশৃঙ্খলের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল কারণ—
A) শক্তি বেশি থাকে
B) বিকল্প খাদ্যপথ থাকে
C) উৎপাদক বেশি
D) বিয়োজক কম
উত্তর: B
9. Ecological Footprint বোঝায়—
A) জীবের পদচিহ্ন
B) শক্তির পরিমাপ
C) মানুষের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের পরিমাপ
D) খাদ্যশৃঙ্খল
উত্তর: C
10. Edge Effect সম্পর্কিত সঠিকটি—
- ইকোটোন অঞ্চলে ঘটে
- প্রজাতির ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়
- শক্তির প্রবাহ বন্ধ হয়
A) 1 ও 2
B) 2 ও 3
C) 1 ও 3
D) 1, 2 ও 3
উত্তর: A
11. শক্তির প্রবাহ একমুখী কারণ—
A) শক্তি চক্রাকার
B) শক্তি পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়
C) উৎপাদক কম
D) খাদক বেশি
উত্তর: B
12. জীবভর পিরামিড উল্টো দেখা যায়—
A) বনভূমিতে
B) সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে
C) মরুভূমিতে
D) তুন্দ্রায়
উত্তর: B
13. নিম্নের কোনটি অজৈব উপাদান নয়?
A) খনিজ লবণ
B) জল
C) ইউরিয়া
D) মাটি
উত্তর: C
14. ট্রপিক লেভেল বোঝায়—
A) শক্তির উৎস
B) খাদ্যস্তর
C) উৎপাদকের সংখ্যা
D) জীবভর
উত্তর: B
15. বাস্তুতন্ত্র উন্মুক্ত প্রণালী কারণ—
A) শক্তি প্রবেশ ও নির্গমন ঘটে
B) শক্তি স্থির থাকে
C) পদার্থ প্রবেশ করে না
D) শক্তি সৃষ্টি হয়
উত্তর: A
16. নিম্নের কোন খাদ্যশৃঙ্খলটি শিকারি শৃঙ্খল?
A) মৃত উদ্ভিদ → ছত্রাক → ব্যাকটেরিয়া
B) মানুষ → কৃমি → আদ্যপ্রাণি
C) উদ্ভিদ → কীটপতঙ্গ → ব্যাঙ → বাজপাখি
D) বৃহৎ মাছ → পরজীবী
উত্তর: C
17. Chaparral বায়োম অবস্থিত—
A) আফ্রিকা
B) ক্যালিফোর্নিয়া
C) ভারত
D) ব্রাজিল
উত্তর: B
18. শক্তির পিরামিড সর্বদা সোজা কারণ—
A) জীবসংখ্যা কমে
B) শক্তির অপচয় হয়
C) উৎপাদক বেশি
D) জীবভর কম
উত্তর: B
19. উৎপাদক অনুপস্থিত হলে—
A) খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়বে
B) খাদক বাড়বে
C) শক্তি বৃদ্ধি পাবে
D) বিয়োজক কমবে
উত্তর: A
20. ইকোক্লাইন বোঝায়—
A) আকস্মিক পরিবর্তন
B) ধীরে ধীরে প্রজাতির পরিবর্তন
C) শক্তির ক্ষয়
D) খাদ্য জালক
উত্তর: B
বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) SAQ:
1. বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে?
নির্দিষ্ট পরিবেশে জীব ও অজৈব উপাদানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে যে সুসংগঠিত তন্ত্র গঠিত হয় তাকে বাস্তুতন্ত্র বলে।
2. ‘Ecosystem’ শব্দটি প্রথম কে ও কবে ব্যবহার করেন?
১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পরিবেশবিদ এ. জি. ট্রান্সলে (A. G. Tansley) প্রথম ‘Ecosystem’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
3. বাস্তুতন্ত্রের দুটি সংজ্ঞা লেখো।
প্রথমত, নির্দিষ্ট অঞ্চলে জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ার পদ্ধতিকেই বাস্তুতন্ত্র বলা হয়। দ্বিতীয়ত, জীবগোষ্ঠী ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্কের মাধ্যমে গঠিত তন্ত্রই বাস্তুতন্ত্র।
4. বাস্তুতন্ত্রের চারটি ধর্ম লেখো।
বাস্তুতন্ত্রের প্রধান ধর্মগুলি হলো—এটির একটি নির্দিষ্ট এলাকা থাকে, এতে শক্তিপ্রবাহ একমুখী, এটি একটি উন্মুক্ত প্রণালী এবং এতে সৌরশক্তি প্রধান শক্তির উৎস।
5. কেন বাস্তুতন্ত্রকে উন্মুক্ত প্রণালী বলা হয়?
বাস্তুতন্ত্রকে উন্মুক্ত প্রণালী বলা হয় কারণ এতে শক্তি ও বস্তু উভয়েরই পরিবেশের সঙ্গে আদান-প্রদান ঘটে।
6. বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্ন কী?
মানুষ প্রতি বছরে তার চাহিদা পূরণের জন্য যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে তার পরিমাপকেই বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্ন বলা হয়।
7. বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্ন ধারণাটি কে প্রদান করেন?
১৯৯২ সালে উইলিয়াম রিস বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্নের ধারণা প্রদান করেন এবং ম্যাথিস ওয়াকারনাগেল এর হিসাব পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।
8. জীবগোষ্ঠী কাকে বলে?
নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির জীবের সম্মিলিত অধিবাসীকে জীবগোষ্ঠী বলা হয়।
9. 10% সূত্র কী?
১৯৪২ সালে লিন্ডেম্যান প্রদত্ত ১০% সূত্র অনুযায়ী বাস্তুতন্ত্রে এক ট্রপিক স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে মাত্র ১০% শক্তি সঞ্চারিত হয় এবং অবশিষ্ট শক্তি তাপ হিসেবে অপচয় হয়।
10. বায়োটোপ কাকে বলে?
সমসত্ত্ব জলবায়ু, মৃত্তিকা ও অবস্থানবিশিষ্ট নির্দিষ্ট বাসভূমিকেই বায়োটোপ বলা হয়।
11. জীবমণ্ডল কাকে বলে?
পৃথিবীর যে অংশে জীবের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় সেই সামগ্রিক অঞ্চলকে জীবমণ্ডল বলা হয়।
12. জীবমণ্ডলের বিস্তৃতি কতদূর পর্যন্ত?
জীবমণ্ডল মাটির নিচে প্রায় ১০ মিটার, সমুদ্রের গভীরে প্রায় ২০০ মিটার এবং বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
13. চ্যাপারেল বায়োম কী এবং কোথায় দেখা যায়?
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে শক্তপাতাযুক্ত ঝোপঝাড় উদ্ভিদবিশিষ্ট বায়োমকে চ্যাপারেল বায়োম বলা হয় এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকো অঞ্চলে দেখা যায়।
14. Sclerophyllous বায়োম বলতে কী বোঝায়?
যে বায়োমে শক্ত ও মোটা পাতাযুক্ত উদ্ভিদ জন্মায় তাকে Sclerophyllous বায়োম বলা হয়।
15. ইকোটোন কী?
দুটি ভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের মধ্যবর্তী পরিবর্তনশীল অঞ্চলকে ইকোটোন বলা হয় যেখানে প্রজাতির বৈচিত্র্য বেশি থাকে।
16. ইকোক্লাইন কাকে বলে?
দুটি বাস্তুতন্ত্রের অন্তঃভাগ থেকে প্রান্তভাগ পর্যন্ত জীব সম্প্রদায়ের ধীর ও ধারাবাহিক পরিবর্তনকে ইকোক্লাইন বলা হয়।
17. এজ এফেক্ট কী?
ইকোটোন অঞ্চলে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের তুলনায় প্রজাতির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে এজ এফেক্ট বলা হয়।
18. বায়োটা বলতে কী বোঝায়?
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী সকল প্রজাতির জীবের সমষ্টিকে বায়োটা বলা হয়।
19. বাস্তুতন্ত্রের কার্যভিত্তিক উপাদান কয়টি ও কী কী?
বাস্তুতন্ত্রের কার্যভিত্তিক উপাদান প্রধানত দুটি—স্বভোজী উপাদান এবং পরভোজী উপাদান।
20. বাস্তুতন্ত্রের সাংগঠনিক উপাদান কী কী?
বাস্তুতন্ত্রের সাংগঠনিক উপাদান দুটি ভাগে বিভক্ত—নির্জীব উপাদান ও সজীব উপাদান।
21. উৎপাদক কাকে বলে?
যে সকল ক্লোরোফিলযুক্ত জীব সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে তাদের উৎপাদক বলা হয়।
22. প্রথম, দ্বিতীয় ও সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদক কারা?
যে সকল জীব সরাসরি উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল তারা প্রথম শ্রেণির খাদক, যারা প্রথম শ্রেণির খাদকের উপর নির্ভরশীল তারা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক এবং যারা শীর্ষ স্তরে অবস্থান করে তাদের সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদক বলা হয়।
23. বিয়োজকের ভূমিকা কী?
বিয়োজক মৃত জীবদেহ ও জৈব পদার্থকে পচিয়ে পুষ্টি উপাদান পুনরায় পরিবেশে ফিরিয়ে দেয় এবং উৎপাদকদের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।
24. ট্রপিক স্তর কী?
খাদ্যশৃঙ্খলে কোনো জীব যে পুষ্টি স্তরে অবস্থান করে তাকে ট্রপিক স্তর বলা হয়।
25. খাদ্যশৃঙ্খল, খাদ্য জালক ও খাদ্য পিরামিডের পার্থক্য লেখো।
খাদ্যশৃঙ্খল হলো শক্তির সরল ক্রমিক প্রবাহ, খাদ্য জালক হলো একাধিক খাদ্যশৃঙ্খলের আন্তঃসংযোগ এবং খাদ্য পিরামিড হলো বিভিন্ন পুষ্টি স্তরের গঠনকে পিরামিড আকারে উপস্থাপন।