পরিবেশ সংক্রান্ত ধারণা: Environmental concepts.
ভূমিকা:
পরিবেশ হল সেই সামগ্রিক পারিপার্শ্বিক অবস্থা, যার মধ্যে জীবজগৎ জন্মগ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায় এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করে। ‘পরিবেশ’ শব্দটির অর্থ পরিবেষ্টন বা চারপাশে ঘিরে থাকা অবস্থা। মানুষের জীবন, সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। পরিবেশ কেবলমাত্র প্রকৃতি বা ভৌত উপাদানের সমষ্টি নয়, বরং জৈব, অজৈব ও সাংস্কৃতিক উপাদানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফল। পৃথিবীর শিলামণ্ডল, বারিমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডল মিলেই গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক পরিবেশ, যা জীবজগতের বেঁচে থাকার মূল ভিত্তি।
প্রকৃতিগত পার্থক্যের ভিত্তিতে পরিবেশকে প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়—প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মনুষ্যসৃষ্ট, সাংস্কৃতিক পরিবেশ। প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্তর্গত অজৈব উপাদান (মাটি, জল, বায়ু), জৈব উপাদান (উদ্ভিদ ও প্রাণী) এবং শক্তি উপাদান (সূর্যশক্তি) জীবনের ধারক ও বাহক। শিলামণ্ডল আমাদের ভূমি ও খনিজ সম্পদের উৎস, বারিমণ্ডল পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত জলরাশি, আর বায়ুমণ্ডল জীবজগতকে রক্ষা করে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে। বিশেষত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে প্রাণীকুলকে সুরক্ষা দেয়।
বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর যেমন ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার ও এক্সোস্ফিয়ার—প্রতিটি স্তরের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ট্রপোস্ফিয়ারে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে; স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তর অবস্থান করে; মেসোস্ফিয়ারে উল্কাপিণ্ড পুড়ে যায়; থার্মোস্ফিয়ারে আয়নিত কণার প্রভাবে বেতার যোগাযোগ সম্ভব হয়; আর এক্সোস্ফিয়ার ধীরে ধীরে মহাকাশে বিলীন হয়েছে। এভাবেই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর জীবনধারাকে সুরক্ষিত রাখে।
এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর তারতম্যের ফলে বিভিন্ন বায়োমের সৃষ্টি হয়েছে—যেমন ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য, তৃণভূমি, তৈগা, তুন্দ্রা, মরু ও পর্ণমোচী অরণ্য। প্রতিটি বায়োমের নিজস্ব উদ্ভিদ ও প্রাণীজ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা পরিবেশের বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য রক্ষা করে।
পরিবেশের সংজ্ঞা (Definition of Environment):
পরিবেশ শব্দটির উৎপত্তি জার্মান শব্দ environ থেকে, যার অর্থ in অর্থাৎ মধ্যে এবং viron অর্থে circuit অর্থাৎ পরিবেষ্টন। অর্থাৎ পরিবেশ বলতে পরিবেষ্টনকারী পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বুঝায়। দ্য কনসাইজ অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে (1992) পরিবেশের সংজ্ঞা হিসাবে বলা হয়েছে- “পরিবেশ হল উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বহিরঙ্গের অবস্থাগুলির সমষ্টি।” জীবের জন্ম, বৃদ্ধি ও অস্তিত্ব রক্ষার সহায়ক জৈব, অজৈব ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলি পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় যে পারিপার্শ্বিক অবস্থা গড়ে ওঠে তাকে পরিবেশ বলে।
পরিবেশের শ্রেণিবিভাগ (Types of Environment)
পরিবেশকে সাধারণত এর গঠন ও উপাদানের ভিত্তিতে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়—
প্রাকৃতিক পরিবেশ (Natural Environment)
যে পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির সৃষ্টি এবং যেখানে মানুষের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ নেই, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।
উপাদানসমূহ:
- অজৈব উপাদান: মাটি, জল, বায়ু, খনিজ, সূর্যালোক
- জৈব উপাদান: উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব
- ভৌত স্তর: শিলামণ্ডল, বারিমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল
উদাহরণ: বনভূমি, নদী, পাহাড়, মরুভূমি, সাগর ইত্যাদি।
মনুষ্যসৃষ্ট বা কৃত্রিম পরিবেশ (Man-made / Artificial Environment)
যে পরিবেশ মানুষের কার্যকলাপের মাধ্যমে সৃষ্টি বা পরিবর্তিত হয়েছে, তাকে মনুষ্যসৃষ্ট পরিবেশ বলে।
উপাদানসমূহ:
- ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু
- শিল্পকারখানা
- যানবাহন
- নগর ও বন্দর
উদাহরণ: শহরাঞ্চল, শিল্পাঞ্চল, বাঁধ, কৃষিজমি ইত্যাদি।
সামাজিক বা সাংস্কৃতিক পরিবেশ (Social / Cultural Environment)
মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, সংস্কৃতি, প্রথা, রীতি-নীতি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ মিলিয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে, তাকে সামাজিক বা সাংস্কৃতিক পরিবেশ বলে।
উপাদানসমূহ:
- সমাজব্যবস্থা
- ধর্ম ও সংস্কৃতি
- শিক্ষা ও ভাষা
- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো
উদাহরণ: পরিবার, বিদ্যালয়, রাষ্ট্র, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
পরিবেশের গুরুত্ব:
মানুষের জীবনে প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের অস্তিত্ব, জীবনযাত্রা ও সভ্যতার বিকাশ সম্পূর্ণভাবে পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। প্রধানত দুটি কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
জীবনরক্ষার প্রয়োজনীয় শর্ত হিসাবে:
প্রাকৃতিক পরিবেশই জীবনের মৌলিক উপাদান সরবরাহ করে।
- বায়ু আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অপরিহার্য।
- জল পানীয়, কৃষি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রধান উপাদান।
- মাটি খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি।
- সূর্যালোক শক্তির প্রধান উৎস।
এই উপাদানগুলি ছাড়া মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ জীবনরক্ষার প্রধান শর্ত।
সম্পদের ভাণ্ডার হিসাবে:
প্রকৃতি হল অফুরন্ত সম্পদের আধার।
- কৃষি সম্পূর্ণভাবে মাটি, জল ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল।
- খনিজ সম্পদ যেমন লোহা, কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি শিল্পবিকাশের মূল উপাদান।
- শক্তির উৎস যেমন জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকেই পাওয়া যায়।
- বনজ সম্পদ কাঠ, ঔষধি উদ্ভিদ ও বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহ করে।
অতএব, শিল্পবিকাশ, পরিবহন, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হল প্রকৃতি।
প্রকৃত অর্থে, প্রাকৃতিক পরিবেশই সেই অবস্থা—
“The landscape before man was fashioned on the earth” — অর্থাৎ মানুষের আবির্ভাবের পূর্বেই যে স্বাভাবিক ভূদৃশ্য ও প্রাকৃতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল, সেটিই প্রাকৃতিক পরিবেশ।
প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান (Components of Physical Environment):
প্রাকৃতিক পবিবেশ যে যে উপাদান দিয়ে রচিত, সেগুলি তিন প্রকার।
- অজৈব বা ভৌত উপাদানসমূহ (Abiotic = non-living components)।
- জৈব বা সপ্রাণ উপাদানসমূহ (Biotic = living components)।
- শক্তি উপাদান (Energy components)।
প্রাকৃতিক পরিবেশের অজৈব উপাদানসমূহ তিন প্রকার। যথা-
- পৃথিবীর কঠিন অংশ যা শিলামণ্ডল (lithosphere) নামে।
- তরল উপাদানে গঠিত প্রাকৃতিক পরিবেশ, যথা- পৃথিবীর তরল অংশ যা বারিমণ্ডল (hydrosphere) নামে।
- গ্যাসীয় উপাদানে গঠিত প্রাকৃতিক পরিবেশ, যথা- পৃথিবীর গ্যাসীয় অংশ যা বায়ুমণ্ডল (atmosphere) নামে পরিচিত।

শিলামণ্ডল (Lithosphere):
কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত পৃথিবীর বহিরাবরণকে শিলামণ্ডল বলে। বিভিন্ন ধরনের শক্ত শিলা দিয়ে ভূত্বক বা শিলামণ্ডল গঠিত। শিলামণ্ডলের গভীরতা সর্বত্র সমান নয়। সমুদ্রের তলদেশে এর গভীরতা মাত্র 5 কিমি। কিন্তু মহাদেশের অংশে এর গভীরতা প্রায় 35 কিমি। শিলামণ্ডলের সবচেয়ে ওপরের অংশটি সিলিকা (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত হওয়ায় একে সিয়াল (SIAL) স্তর বলে। মহাদেশগুলি সিয়াল স্তর দ্বারা গঠিত।ভত্বক গঠনকারী মৌলিক পদার্থগুলির মধ্যে অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম প্রধান। এই আটটি মৌলিক পদার্থ দিয়ে ভূত্বকের 98 শতাংশ গঠিত। শিলামণ্ডল আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত। আর শিলা তো খনিজ দিয়েই তৈরি। শিলাগঠনকারী প্রধান খনিজ দশটি-কোয়াটম, ফেলস্ফার, অভ্র, কর্দম খনিজ, ক্লোরাইড, হর্নব্লেন্ড, অগাইট, অলিভিন, ক্যালসাইট, ডলোমাইট ও লৌহ আকরিক।
বারিমণ্ডল (Hydrosphere):
পৃথিবীর সব ধরনের জলরাশিকে বারিমণ্ডল বলা হয়। শিলামণ্ডলের যে সব নীচু অংশ জলপূর্ণ হয়ে মহাসাগর, সাগর, নদী, হ্রদ, খাল-বিল প্রভৃতি জলভাগ সৃষ্টি করেছে তাকে একসঙ্গে বারিমণ্ডল বলা হয়। ভূ-পৃষ্ঠের মোট আয়তনের প্রায় 71.4 ভাগ জুড়ে রয়েছে বারিমণ্ডল। সারা পৃথিবী জুড়ে বারিমণ্ডল কোনো-না-কোনো রূপে বিদ্যমান রয়েছেই। ‘বারি’-র তিনটি রূপ-জল, বরফ ও জলীয় বাষ্প। ‘জল-রূপে বিদ্যমানতাই বেশি’। জল হল একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন পশম তরল পদার্থ (pH-7)।
| উৎস | শতাংশ |
|---|---|
| বিশ্ব সমুদ্র | 97.200% |
| ভৌমজল | 0.625% |
| নদী-হ্রদ | 0.024% |
| বরফ | 2.150% |
| জলীয় বাষ্প | 0.001% |
বায়ুমণ্ডল (Atmosphere):
বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি অন্যতম প্রধান উপাদান। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় 10,000 কিলোমিটার ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
বায়ুমণ্ডলের উপাদান: বায়ুমণ্ডল প্রধানতঃ তিনটি উপাদানে গঠিত যথা-(ক) গ্যাসীয় উপাদান, (খ) জলীয় বাষ্প এবং (গ) জৈব ও অজৈব উপাদান।
গ্যাসীয় উপাদান: বায়ু হল বিভিন্ন গ্যাসের সংমিশ্রণ। বিশুদ্ধবায়ুর প্রধান উপাদানগুলি হল নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং বিভিন্ন নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যেমন- আর্গন, হিলিয়াম, জেনন, ক্রিপ্টন প্রভৃতি। নিচের সারণিতে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানগুলির পরিমাণ দেওয়া হল।
| উপাদান | শতাংশ |
|---|---|
| নাইট্রোজেন | 78.080% |
| অক্সিজেন | 20.940% |
| আর্গন | 0.930% |
| কার্বন ডাই-অক্সাইড | 0.030% |
| অন্যান্য গ্যাস | 0.003% |
ওজোন: বায়ুমণ্ডলে এই গ্যাসের পরিমাণ খুব কম হলেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা বিভিন্ন ক্ষতিকারক রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে।
জলীয় বাষ্প: বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির জন্যই ঘনীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুহিন ও তুষার সৃষ্টি হয়।
ধূলিকণা: একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ধূলিকণা, মরু অঞ্চল ও সমুদ্র তীরের অতি সূক্ষ্ম ধুলো-বালি, অতিক্ষুদ্র খনিজ লবণ, বিভিন্ন কলকারখানার পোড়া কয়লার ছাই, আগ্নেয়গিরি হতে উৎক্ষিপ্ত ছাই, ভষ্ম প্রভৃতি। এদের একত্রে অ্যারোসল (Acrosol) বলে।
ওজোন পর্দার গুরুত্ব:
মানুষের উপর প্রভাব:
মানুষের উপর UV-B রশ্মির বিনাশমূলক ক্রিয়ার মূল কারণ DNA (UV-B)-এর দ্বারা UV-B রশ্মির শোষণ এবং উক্ত কারণে DNA এর অস্বাভাবিক আচরণ।* মানুষের উপর UV-B এর প্রভাবগুলি নিম্নরূপ:
- মানুষের ত্বক UV-B রশ্মিযুক্ত সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে অনাবৃত হলে UV-B রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বক পুড়ে যায় (সৌরদগ্ধ বা sunburn) এবং ত্বক তামাটে বর্ণ ধারণ করে (suntan)
- মানুষের ত্বকের উপর UV-B রশ্মির সমন্বিত সূর্যরশ্মির প্রকটে ‘ত্বকের কর্কট রোগ’ বা ত্বকের ক্যানসার (skin cancer) সৃষ্টি হয়।
- অপেক্ষাকৃত কম বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে তীব্র UV-B রশ্মির দ্বারা চোখে ছানি (eye cataracts) পড়ার ঘটনা ঘটে।
- UV-B রশ্মির প্রভাবে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা (immunity) কমে যায়, ফলে মানুষ খুব সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়।
প্রাণীর উপর প্রভাব:
- UV-B রশ্মির প্রভাবে নিম্নশ্রেণীর প্রাণীর বৃদ্ধি এবং বংশবিস্তার ব্যাহত হয়।
- পৃথিবীব্যাপী ব্যাঙ এবং অন্যান্য উভচর প্রাণীর সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণ জীব পরিবেশে সূর্যরশ্মির মাধ্যমে UV-B রশ্মির অনুপ্রবেশ।
উদ্ভিদের উপর প্রভাব:
- কয়েকশ্রণীর উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া UV-B রশ্মির দ্বারা ব্যাহত হয়।
- UV-B রশ্মির প্রভাবে পাতা, ফল এবং বীজের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং উৎপাদনশীলতা কমে যায়।
- জলজ বাস্তুতন্ত্রে (সমুদ্র এবং আবদ্ধ জলাশয়ে) খাদ্য শৃঙ্খলের সূচনাকারী ‘ফাইটোপ্লাঙ্কটনের’ বিনাশ ঘটে UV-B রশ্মির প্রভাবে। ফলে সামুদ্রিক এবং অন্যান্য জলজ বাস্তুতন্ত্রের গতিশীলতা বিঘ্নিত হয়।
বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর:
U.S.A.-র জাতীয় বিমান ও মহাকাশ সংস্থা (নাসা)-র সমীক্ষা অনুযায়ী রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডল প্রধানতঃ দুটি স্তরে বিভক্ত-
- হোমোস্ফিয়ার বা সমমণ্ডল।
- হেটোরোস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল।
হোমোস্ফিয়ার বা সমমণ্ডল:
ভূপৃষ্ঠ হতে ওপরের দিকে 90 কিমি পর্যন্ত অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন এবং বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় একই রকম থাকে, তাই এই স্তরকে বলা হয় হোমোস্ফিয়ার বা সমমণ্ডল।
হেটোরোস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল:
হোমোস্ফিয়ার স্তরের ওপরে বায়ুমণ্ডলের উর্ধ্বসীমা অর্থাৎ 10,000 কিমি. পর্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত এবং বিভিন্ন গ্যাসের স্তরগুলি একইরকম থাকে না, তাই এই স্তরকে হেটোরোস্ফিয়ার বা বিষমমণ্ডল বলে। রাসায়নিক গঠন অনুসারে এই স্তরকে চারটি উপরিভাগে ভাগ করা যায়, যথা-
- হাইড্রোজেন স্তর: বায়ুমণ্ডলের উর্ধ্বসীমা 10,000 কিমি. থেকে নীচে 3, 500 কিমি. পর্যন্ত অঞ্চল প্রধানতঃ হাইড্রোজেন পরমাণু স্তর দ্বারা গঠিত।
- হিলিয়াম স্তর: হাইড্রোজেন স্তরের নিচে 3,500 কিমি. থেকে 1000 কিমি. পর্যন্ত অঞ্চল প্রধানতঃ হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা গঠিত।
- পারমাণবিক স্তর: অক্সিজেন স্তর হিলিয়াম স্তরের নিচে 1,000 কিমি. থেকে 200 কিমি, পর্যন্ত অঞ্চল প্রধানতঃ অক্সিজেন দ্বারা গঠিত।
- আনবিক নাইট্রোজেন স্তর: পারমাণবিক অক্সিজেন স্তরের ঠিক নিচে 200 কিমি. থেকে হেমোস্ফিয়ারের সীমানা 90 কিমি পর্যন্ত অঞ্চল প্রধানতঃ নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত।
উষ্ণতা অনুসারে স্তরবিন্যাস: বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে উষ্ণতার তারতম্য দেখা যায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে যতই ওপরের দিকে যাওয়া যায়, ততই বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। উষ্ণতা অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে (ক) ট্রপোস্ফিয়ার (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (গ) মেসোস্ফিয়ার (ঘ) থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার (ঙ) এক্সোস্ফিয়ার ও (চ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার এই ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়।
ট্রপোস্ফিয়ার বা ক্ষুব্ধমণ্ডল:
এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়েনিচের স্তর। ভূপৃষ্ঠ থেকে 18 কিমি. পর্যন্ত ওপরের বায়ুস্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। তবে নিরক্ষীয় অঞ্চলে 18 কিমি হলেও মেরু অঞ্চলে ইহা 89 কিমি, পর্যন্ত বিস্তৃত। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদানের প্রায় 76 শতাংশ এবং সমস্ত প্রকার জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা এই স্তরেই দেখতে পাওয়া যায়। মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, ঝড়, শিশির, কুয়াশা সহ সমস্ত প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই’ স্তরেই দেখা যায় বলে একে ক্ষুদ্ধমণ্ডল বলে। এই স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এই তাপমাত্রা হ্রাসের হার সাধারণভাবে প্রতি 100 মিটার উচ্চতায় 0.1° সেন্টিগ্রেট বা প্রতি 1000 মিটার (1 কিমি.) উচ্চতায় 6.5 সেন্টিগ্রেট। ট্রাপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটেস্ফিয়ার এর মর্ধবর্তী অঞ্চল ট্রপোপজ নামে পরিচিত।
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল:
ট্রাপোপজের ওপরে 50 কিমি. পর্যন্তবায়ুস্তরটি স্ট্যাটোস্ফিয়ার নামে পরিচিত। এই বায়ুস্তরে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয় বাষ্প থাকে না, ফলে আবহাওয়া শান্ত থাকে। এই জন্য এই স্তরকে শান্তমণ্ডল বলে। ঝড় বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলি চলাচল করে। বায়ু প্রবাহিত হয় না বলে এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলি চলাচল করে। বায়ুপ্রবাহ থাকে না বলে জেটবিমানের ইঞ্জিন নির্গত ধোঁয়া পুঞ্জাকারে সাদা দাগের আকারে দেখা যায়। এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে দেখা যায়। স্ট্যাটোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে স্ট্যাটোপজ বলে।
মেসোস্ফিয়ার:
স্ট্র্যাটোপজের ওপর ৪০ কিমি. পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোস্ফিয়ার বলে। এই স্তরেও ট্রপোস্ফিয়ারের মতো উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাস পায়। মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে সেগুলির অধিকাংশ এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়। মেসোস্ফিয়ারের ওপরে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া থেমে যায়। এই স্তরকে মেসোপজ বলে।
থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার:
মেসোপজের ওপরে প্রায় 500 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে থার্মোস্ফিয়ার বলা হয়। এই অংশে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বাড়তে থাকে। এই অংশে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা। তীব্র সৌরবিকিরণে রঞ্জনরশ্মি ও অতি বেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়। তাই এই স্তরকে আয়নোস্ফিয়ার বলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ আয়নোস্ফিয়ারের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। ফলে পৃথিবীতে বেতার সংযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয়। এই স্তরে বিভিন্ন তড়িতাহত অণুর চৌম্বক বিক্ষেপের ফলে অণুগুলি প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংস্পর্শে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে একপ্রকার উজ্জ্বল আলোক বিচ্ছুরণ দেখা যায়, একে মেরুজ্যোতি বলে। সুমেরু অঞ্চলের মেরুজ্যোতিকে সুমেরুপ্রভা বা আরোয়া বোরিয়ালিস এবং কুমেরু অঞ্চলের মেরুজ্যোতিকে কুমেরুপ্রভা বা আরোরা অস্ট্রালিস বলে।
এক্সোস্ফিয়ার:
থার্মোস্ফিয়ারের ওপরে প্রায় 750 কিমি, পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোস্ফিয়ার বলে। এই স্তরেও উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।
ম্যাগনেটোস্ফিয়ার:
এক্সোস্ফিয়ারের ওপরে বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমা পর্যন্ত বায়ুস্তরকে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বলে। এই স্তরে বায়ুমণ্ডলকে বেষ্টন করে একটি প্রোটন ও ইলেকট্রনের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। এই স্তর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না।

বায়োম [Biome] কি?
জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত এক একটি বিশেষ চরিত্রের বায়োস্ফিয়ারকে বায়ম বলে। 1939 সালে বিজ্ঞানী এফ.ই. ক্লিমেন্টস ও ভি.ই. সেলফোর্ড প্রথম বায়োম কথাটি উল্লেখ করেন।
| ক্রম | বায়োম | অবস্থান | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| 1 | ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য | 0°–10° | উষ্ণ ও আর্দ্র; Optimum Biome |
| 2 | নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি | 30°–50° | Bread Basket অঞ্চল |
| 3 | তৈগা | 50°–70° | দীর্ঘ শীত |
| 4 | তুন্দ্রা | 65°–80° | শীতল ও বরফাচ্ছাদিত |
| 5 | মরু | 15°–30° | অল্প বৃষ্টিপাত; জেরোফাইট উদ্ভিদ |
| 6 | পর্ণমোচী | 10°–35° | শীতকালে পাতা ঝরে |
উপসংহার:
পরিবেশ মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শক্তি ও শিল্প—সবকিছুর মূল উৎস পরিবেশ। কিন্তু আধুনিক যুগে শিল্পায়ন, নগরায়ন, বননিধন ও দূষণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ওজোন স্তরের ক্ষয়, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, জীববৈচিত্র্যের হ্রাস প্রভৃতি সমস্যা মানবসভ্যতার জন্য বিপদ সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতএব, পরিবেশ সংরক্ষণ আজকের দিনের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। বৃক্ষরোপণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি—এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি। পরিবেশ রক্ষা মানেই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষা। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করা।
পরিবেশের ধারণা FAQ Questions.
১) পরিবেশ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জীবের জন্ম, বৃদ্ধি ও অস্তিত্ব রক্ষার সহায়ক জৈব, অজৈব ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলির পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় গঠিত পারিপার্শ্বিক অবস্থাকেই পরিবেশ বলে।
২) পরিবেশ শব্দটির উৎপত্তি কোথা থেকে?
উত্তর: ‘Environment’ শব্দটি ফরাসি/জার্মান উৎসের environ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ চারদিকে পরিবেষ্টন করা।
৩) পরিবেশকে কয় প্রকারে ভাগ করা যায়?
উত্তর: প্রধানত দুই প্রকার—
১) প্রাকৃতিক পরিবেশ (Physical Environment)
২) সাংস্কৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট পরিবেশ (Cultural/Man-made Environment)
৪) প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান উপাদান কী কী?
উত্তর:
১) অজৈব উপাদান (Abiotic)
২) জৈব উপাদান (Biotic)
৩) শক্তি উপাদান (Energy components)
৫) শিলামণ্ডল কী?
উত্তর: কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত পৃথিবীর বহিরাবরণকে শিলামণ্ডল (Lithosphere) বলে। এটি ভূত্বক ও খনিজ সম্পদের আধার।
৬) বারিমণ্ডল বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পৃথিবীর সমস্ত জলরাশি—মহাসাগর, নদী, হ্রদ, বরফ ও জলীয় বাষ্প—মিলিয়ে যে জলমণ্ডল গঠিত হয়েছে তাকে বারিমণ্ডল (Hydrosphere) বলে।
৭) বায়ুমণ্ডলের প্রধান গ্যাসগুলির নাম কী?
উত্তর: নাইট্রোজেন (৭৮.০৮%), অক্সিজেন (২০.৯৪%), আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
৮) ওজোন স্তরের গুরুত্ব কী?
উত্তর: ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকারক UV-B রশ্মি শোষণ করে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদজগৎকে রক্ষা করে।
৯) বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলি কী কী?
উত্তর:
১) ট্রপোস্ফিয়ার
২) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
৩) মেসোস্ফিয়ার
৪) থার্মোস্ফিয়ার (আয়নোস্ফিয়ার)
৫) এক্সোস্ফিয়ার
৬) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
১০) বায়োম কী?
উত্তর: জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বৃহৎ জীবভূমিকে বায়োম (Biome) বলে। যেমন—ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য, তৃণভূমি, তৈগা, তুন্দ্রা, মরু ও পর্ণমোচী অরণ্য।
পরিবেশের ধারণা MCQ প্রশ্ন ও উত্তর:
১) ‘Environment’ শব্দটির অর্থ কী?
A) সৃষ্টি
B) পরিবেষ্টন
C) উন্নয়ন
D) পরিবর্তন
উত্তর: B) পরিবেষ্টন
২) পরিবেশের সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি কীসের সমষ্টি?
A) কেবল জৈব উপাদান
B) কেবল অজৈব উপাদান
C) বহিরঙ্গের অবস্থাগুলির সমষ্টি
D) শুধু জলবায়ু
উত্তর: C) বহিরঙ্গের অবস্থাগুলির সমষ্টি
৩) পরিবেশ প্রধানত কয় প্রকার?
A) এক
B) দুই
C) তিন
D) চার
উত্তর: B) দুই
৪) নিচের কোনটি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান নয়?
A) শিলামণ্ডল
B) বারিমণ্ডল
C) বায়ুমণ্ডল
D) কারখানা
উত্তর: D) কারখানা
৫) পৃথিবীর কঠিন অংশকে কী বলা হয়?
A) বায়ুমণ্ডল
B) বারিমণ্ডল
C) শিলামণ্ডল
D) জীবমণ্ডল
উত্তর: C) শিলামণ্ডল
৬) পৃথিবীর কত শতাংশ অংশ বারিমণ্ডল দ্বারা আবৃত?
A) 51%
B) 61%
C) 71%
D) 81%
উত্তর: C) 71%
৭) বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কোন গ্যাস রয়েছে?
A) অক্সিজেন
B) নাইট্রোজেন
C) কার্বন ডাই-অক্সাইড
D) আর্গন
উত্তর: B) নাইট্রোজেন
৮) ওজোন স্তর প্রধানত কোন স্তরে অবস্থিত?
A) ট্রপোস্ফিয়ার
B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
C) মেসোস্ফিয়ার
D) এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর: B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
৯) ট্রপোস্ফিয়ারের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় কত?
A) 10 কিমি
B) 18 কিমি
C) 50 কিমি
D) 100 কিমি
উত্তর: B) 18 কিমি
১০) বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে উল্কা পুড়ে যায়?
A) ট্রপোস্ফিয়ার
B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
C) মেসোস্ফিয়ার
D) থার্মোস্ফিয়ার
উত্তর: C) মেসোস্ফিয়ার
১১) আয়নোস্ফিয়ার অন্য কোন নামে পরিচিত?
A) ট্রপোস্ফিয়ার
B) মেসোস্ফিয়ার
C) থার্মোস্ফিয়ার
D) এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর: C) থার্মোস্ফিয়ার
১২) বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনের জন্য কোন স্তর দায়ী?
A) ট্রপোস্ফিয়ার
B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
C) আয়নোস্ফিয়ার
D) এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর: C) আয়নোস্ফিয়ার
১৩) UV-B রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে কোন স্তর?
A) নাইট্রোজেন স্তর
B) ওজোন স্তর
C) কার্বন স্তর
D) ধূলিকণা স্তর
উত্তর: B) ওজোন স্তর
১৪) জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত বৃহৎ জীবভূমিকে কী বলে?
A) ইকোসিস্টেম
B) বায়োম
C) বায়ুমণ্ডল
D) বারিমণ্ডল
উত্তর: B) বায়োম
১৫) ‘Optimum Biome’ বলা হয় কোনটিকে?
A) তুন্দ্রা
B) মরু
C) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য
D) তৈগা
উত্তর: C) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য
১৬) পৃথিবীর ‘bread-basket’ অঞ্চল কোন বায়োম?
A) তুন্দ্রা
B) তৃণভূমি
C) মরু
D) তৈগা
উত্তর: B) তৃণভূমি
১৭) তৈগা বায়োম প্রধানত কোথায় অবস্থিত?
A) নিরক্ষরেখা অঞ্চল
B) 50°–70° উত্তর অক্ষাংশে
C) 15°–30° অক্ষাংশে
D) 0°–10° অক্ষাংশে
উত্তর: B) 50°–70° উত্তর অক্ষাংশে
১৮) তুন্দ্রা শব্দের অর্থ কী?
A) বন
B) মরুভূমি
C) শ্যাওলা/শৈবাল
D) তৃণভূমি
উত্তর: C) শ্যাওলা/শৈবাল
১৯) মরু বায়োমে প্রধান উদ্ভিদ কী ধরনের?
A) জলজ
B) কণ্টকযুক্ত জেরোফাইট
C) চিরহরিৎ
D) শৈবাল
উত্তর: B) কণ্টকযুক্ত জেরোফাইট
২০) প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রধানত কয় কারণে?
A) এক
B) দুই
C) তিন
D) চার
উত্তর: B) দুই