নীতি আয়োগ (NITI Aayog): গঠন, কাজ ও গুরুত্ব:

নীতি আয়োগ

নীতি আয়োগ (NITI Aayog): গঠন, কাজ ও গুরুত্ব:

নীতি আয়োগ কী?

‘নীতি আয়োগ’ একটি হিন্দি শব্দ- Policy Commission or NITI AAYOG – National Institution for Transforming India Aayog হল ভারত সরকারের নীতি নির্ধারক কমিটি যা এটি Planning Commission-এর পরিবর্তে ১ জানুয়ারি ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

পূর্ণরূপ: National Institution for Transforming India (NITI Aayog)

প্রতিষ্ঠা: ১ জানুয়ারি, ২০১৫

সদর দফতর: নয়াদিল্লি

নীতি আয়োগের গঠন (Structure of NITI Aayog):

  • পরিকল্পনা কমিশনের পুনরায় নামকরণ-Renaming of Planning Commission 
  • 1950 সালে Planning Commission তৈরি হয়। 
  • 29 মে, 2014 ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী শপথ গ্রহণের তিনদিনের মধ্যে প্রথম Independent Evaluation Office-IEO, তাঁদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পেশ করেন। 
  • IEO-এর প্রধান শ্রী অজয় চিব্বারের মতে, Planning Commission-এর পরিবর্তে Central Commission তৈরি করা প্রয়োজন। 
  • 13 আগষ্ট, 2014-মোদী সরকারের ক্যাবিনেট Planning Commission-কে বাতিল ঘোষণা করে। 
  • 15 আগষ্ট, 2014-শ্রী নরেন্দ্র মোদী চীনের আদলে Planning Commission-এর পরিবর্তে National Development and Reform Commission (NDRC) গঠনের কথা বলেন। 
  • 1 জানুয়ারি, 2015-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদ Planning Commission-এর পরিবর্তে NITI Aayog, ক্যাবিনেট মিটিংয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে গঠন করেন। 

নীতি আয়োগের বর্তমান সদস্যগণ (সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী):

  • অধ্যক্ষ (Chairperson)— প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister). 
  • উপ-চেয়ারম্যান (Vice-Chairperson)— Shri Suman K. Bery.
  • পূর্ণকালীন সদস্য (Full-Time Members).
    • Shri V. K. Saraswat.
    • Prof. Ramesh Chand. 
    • Dr. V. K. Paul. 
    • Shri Arvind Virmani. 
  • Ex-officio সদস্য (Ex-officio Members).
    • Shri Raj Nath Singh, মন্ত্রী (Defence).
    • Shri Amit Shah, মন্ত্রী (Home Affairs & Cooperation). 
    • Shri Shivraj Singh Chouhan, মন্ত্রী (Agriculture & Farmers Welfare ও Rural Development). 
    • Smt. Nirmala Sitharaman, মন্ত্রী (Finance & Corporate Affairs). 
  • নীতি আয়োগের প্রধান নির্বাহী (CEO) হলেন B. V. R. Subrahmanyam. 

নীতি আয়োগের প্রধান কার্যাবলি:

  • দেশের উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ও কৌশল নির্ধারণ করা।
  • বিভিন্ন রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা সমন্বয় করা।
  • ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া প্রভৃতি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করা। 
  • SDG অর্জনের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা। 
  • শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও রিপোর্ট প্রকাশ করা।

নীতি আয়োগের গুরুত্ব:

নীতি আয়োগ ভারতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, কারণ এটি – 

  • নীতিনির্ধারণে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। 
  • কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে co-operative federalism বৃদ্ধি করে। 
  • উন্নয়নের জন্য data-driven approach ব্যবহার করে।
  • নীতি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

NITI Aayog & Planning Commission-এর মধ্যে পার্থক্য:

আর্থিক ক্ষমতা: 

  • নীতি আয়োগ একটি উপদেষ্টামূলক সংস্থা বা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা-অর্থ মন্ত্রকের হাতেই অর্পিত হল। অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশন বিভিন্ন মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারগুলিকে অর্থবরাদ্দের ক্ষমতা ভোগ করত। 

পূর্ণ সময়ের সদস্যমন্ডলী: 

  • পরিকল্পনা কমিশনের পূর্ণ সময়ের সদস্য সংখ্যা অপেক্ষা নীতি আয়োগের সদস্য সংখ্যা কম। সর্বশেষ পরিকল্পনা কমিশনে পূর্ণসময়ের সদস্যসংখ্যা ছিল ৪ জন। অন্যদিকে নীতি আয়োগের পূর্ণ সময়ের সদস্য সংখ্যা 9 জন। 

রাজ্যের ভূমিকা: 

  • নীতি আয়োগে-আশা করা হচ্ছে যে, রাজ্যগুলি আরও অধিক ক্ষমতা ভোগ করবে। পরিকল্পনা কমিশনে রাজ্যের মতামতের গুরুত্ব কম ছিল। 

মেম্বার সেক্রেটারি: 

  • নীতি আয়োগে-CEO প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা নিযুক্ত হবেন। অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশনে মেম্বার সেক্রেটারি বা সেক্রেটারিগণ স্বাভাবিক নিয়মে নিযুক্ত হতেন। 

আংশিক সময়ের সদস্যগণ: 

  • নীতি আয়োগে-সময় সময়ে আংশিক সময়ের সদস্য নিযুক্ত হবেন। 
  • পরিকল্পনা কমিশনে আংশিক সময় সদস্য নিয়োগের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। 

সংবিধান: 

  • নীতি আয়োগে-পরিচালকমন্ডলীতে মুখ্যমন্ত্রীগণ এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নরগণ সদস্য। 
  • অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশন জাতীয় উন্নয়ন পর্ষদের (National Development Council) নিকট রিপোর্ট পেশ করত এবং মুখ্যমন্ত্রী ও লেফটেন্যান্টগণ NDC-র সদস্য ছিলেন, পরিকল্পনা কমিশনের নয়। 

গঠন: 

  • নীতি আয়োগে-নতুন পদ CEO (কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব পদমর্যাদার) এবং Vice-Chairperson। এছাড়াও 5 জন পূর্ণ সময়ের সদস্য ও 2 জন আংশিক সময়ের সদস্য এবং চারজন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। 
  • পরিকল্পনা কমিশনে ডেপুটি চেয়ারপার্সন, মেম্বার সেক্রেটারি এবং পূর্ণসময়ের সদস্য ছিলেন। 

অংশগ্রহণ: 

  • নীতি আয়োগে-নীতি নির্ধারণ এবং অর্থ বরাদ্দ রাজ্যগুলির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে করা হবে। 
  • পরিকল্পনা কমিশনে, কমিশন নীতি নির্ধারণ করত এবং তারপর অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে রাজ্যগুলির সাথে আলাপ আলোচনা করা হত। 

অর্থবরাদ্দ: 

  • নীতি আয়োগের অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে রাজ্য ও জাতীয়স্তরে নানারকম কর্মসূচি রূপায়নের জন্যে অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা পরিকল্পনা কমিশনের ছিল।

‘নীতি আয়োগ’ গঠনের উদ্দেশ্যাবলী: 

  • ‘নীতি আয়োগ’ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় একটি বলিষ্ঠ দিক নির্দেশ করবে এবং কৌশলগত পরামর্শ প্রদান করবে। 
  • পরিকল্পনা কমিশনের কেন্দ্র-রাজ্য একমুখী নীতি প্রবাহের পরিবর্তে রাজ্যগুলির সাথে একটি সঠিক ও নিরবচ্ছিন্ন অংশীদারিত্ব স্থাপন করবে। 
  • নীতি আয়োগ একটি ‘চিন্তন শিবির’ উদ্‌ঘাটন করবে। যা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দান করবে। 
  • নীতি আয়োগ আন্তঃমন্ত্রণালয় ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় সাধন করবে; এই সংস্থা দেশের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করবে; যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রসদ যোগাবে এবং অনুধাবন করবে-শক্তিশালী রাজ্য গঠনই শক্তিশালী জাতি/দেশ গঠনে সহায়ক হবে। 
  • নীতি আয়োগ গ্রামস্তর থেকে পরিকল্পনা সংগ্রহ করে তার একত্রীকরণ করবে এবং উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তা সহায়ক হবে। সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের যথাযথ অগ্রগতি ঘটানোর জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। 
  • নীতি আয়োগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের দক্ষ, পেশাদার ও সহযোগী ব্যক্তি বা সংস্থার তত্ত্বাবধানে উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাবে। ফলে, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রূপায়ণের ধারাকে তরান্বিত করতে, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং সরকারের বিভাগগুলির সমন্বয় সাধনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। 
  • নীতি আয়োগ উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অগ্রগতির তদারকি ও মূল্যায়ন করবে; এবং প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেবে। 

উপরোক্ত কৌশল অবলম্বনের ভিত্তিতে নীতি আয়োগ নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যগুলি পূরণে সমর্থ হবে- 

  • প্রশাসনিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে, যাতে সরকার “প্রথম এবং সর্বশেষ অবলম্বন প্রদানের (provider of first and last resort) পরিবর্তে একটি ‘সক্রিয়’ (Enabler) সংস্থা হবে”। 
  • ‘খাদ্য নিরাপত্তার’ অগ্রগতির চাইতে মিশ্র কৃষি উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করবে। এবং সেই সাথে কৃষকরা যাতে তাদের প্রকৃত উৎপাদন ঘটাতে পারে সেজন্য সচেষ্ট হবে। 
  • ভারত যাতে বিশ্বের জনসাধারণের ওপর যুক্তি ও সুচিন্তিত কার্যে সক্রিয় ভূমিকা পালনে সমর্থ হয় তা নিশ্চিত করবে। 
  • মধ্যবিত্ত সমাজের নাগরিকরা যাতে কর্মযুক্ত থাকতে পারেন এবং তাদের দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার হয় তা নিশ্চিত করবে। 
  • ভারতের উদ্যোগপতিদের বৈজ্ঞানিক এবং বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানব সম্পদ ব্যবহারে সহায়তা প্রদান করবে। 
  • অনাবাসী ভারতীয়দের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক-অর্থনৈতিক (Geo-economic) এবং ভৌগোলিক রাজনৈতিক (Geo-political) শক্তিকে উন্নয়নের কাজে যুক্ত করবে।

Protijogita.in শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। আমি সুকান্ত দাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে এম.এ করেছি এবং শিক্ষকতা করি। এই ওয়েবসাইটে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রশ্নোত্তর, মক টেস্ট, এবং দরকারি অধ্যয়ন সামগ্রী প্রদান করা হয়।

Post Comment

error: Content is protected !!