ভূমিকা:
ভারতের পার্লামেন্টের গঠন ও ভারতের পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলী ভারতের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভারত একটি সংসদীয় গণতন্ত্র, যেখানে দেশের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণের প্রধান দায়িত্ব পালন করে Parliament of India। এই পার্লামেন্টের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং আইন প্রণয়ন করেন।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্ট তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত— President of India, Lok Sabha এবং Rajya Sabha। এই তিনটি অংশ একসঙ্গে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করে। পার্লামেন্ট শুধু আইন প্রণয়নই করে না, বরং সরকারের কার্যক্রমের উপর নজরদারি, দেশের বাজেট অনুমোদন এবং সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও সম্পাদন করে।
সুতরাং, ভারতের পার্লামেন্টের গঠন ও ভারতের পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পর্কে জানা ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের শাসনব্যবস্থাকে সুসংগঠিত ও কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজ্যসভার গঠন:
রাজ্যসভা হল ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ। সংবিধানে বলা হয়েছে যে সর্বাধিক ২৫০ জন সদস্য নিয়ে রাজ্যসভা গঠিত হবে। এর মধ্যে ১২ জন সদস্য সাহিত্য, বিজ্ঞান, সমাজসেবা, চারুকলা প্রভৃতি বিষয়ে পারদর্শী ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হবে। আর অবশিষ্ট ২৩৮ জন সদস্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলি থেকে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবে। বর্তমানে রাজ্যসভার মোট সদস্য সংখ্যা ২৪৫ জন। পদাধিকারী বলে উপরাষ্ট্রপতি রাজ্য সভায় সভাপতিত্ব করেন। সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ হল ৬ বছর। প্রতি ২ বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ সদস্যদের অবসর গ্রহণ করতে হয়।
লোকসভার গঠন:
ভারতীয পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নাম হলো লোকসভা। সংবিধানে বলা হয়েছে যে সর্বাধিক ৫৫২ জন সদস্য নিয়ে লোকসভা গঠিত হবে। বর্তমানে লোকসভার সদস্য সংখ্যা ৫৪৫ জন। এর মধ্যে ২ জন ইঙ্গ ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত করতে পারবে (তবে ১০৪তম সংশোধনী, ২০২০ অনুযায়ী এই ধারা বাতিল করা হয়েছে)। অবশিষ্টরা অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলির নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ। অঙ্গরাজ্য সমূহের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যা ৫৩০ জন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সমূহের প্রতিনিধির সংখ্যা ২০ জন।
লোকসভার সদস্যরা লোকসভার প্রথম অধিবেশনে নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে অধ্যক্ষ বা স্পিকার পদে নির্বাচিত করেন। এই স্পিকার লোকসভা পরিচালনা করেন। এছাড়াও একজন উপাধ্যক্ষ বা সহকারী স্পিকার থাকেন। তিনি স্পিকারের অবর্তমানে যাবতীয় কার্যসম্পাদন করেন। লোকসভার সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ হল ৫ বছর জরুরি অবস্থার সময় প্রয়োজন মনে করলে লোকসভার কার্যকালের মেয়াদ ১ বছর বৃদ্ধি করা যায়। তবে এইসব মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই রাষ্ট্রপতি লোকসভায় ভেঙে দিতে পারেন।
ভারতের পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলী:
ভারতীয় পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও কার্যাবলী হল—
আইন প্রণয়নের ক্ষমতা:
সংবিধানে আইন প্রণয়নের ব্যাপারে তিনটি তালিকা বিদ্যমান। যথা কেন্দ্রীয় তালিকা, রাজ্য তালিকা ও যুগ্ম তালিকা। তন্মধ্যে কেন্দ্ৰীয় তালিকাভুক্ত ১০০টি বিষয়ে পার্লামেন্ট এককভাবে আইন প্রণয়ন করতে পারে। আর যুগ্ম তালিকার অন্তর্ভুক্ত ৫২টি বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই আইন প্রণয়ন করতে পারে। তবে যুগ্মতালিকার অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয়ে রাজ্য আইন ও কেন্দ্রীয় আত্ম ইনের বিরোধ দেখা দিলে কেন্দ্রীয় আইনসভা প্রনীত আইনই গ্রাহ্য হবে। তাছাড়া অবশিষ্ট বিষয়ে আইন প্রণয়নের অধিকারও পার্লামেন্টের রয়েছে। দেশে জরুরি অবস্থা জারি থাকলে বা রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হলে রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়েও পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সন্ধি, চুক্তি ইত্যাদির শর্তাদি সাপেক্ষে, দুই বা ততোধিক রাজ্যের অনুরোধক্রমে পার্লামেন্ট রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে।
মন্ত্রীসভা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা:
প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ পার্লামেন্টের যে কোনো কক্ষের সদস্যদিগের মধ্য থেকে নিযুক্ত হতে পারেন। তবে মন্ত্রীসভার সদস্যদের অবশ্যই পার্লামেন্টের সদস্য হতে হয়। পার্লামেন্টের সদস্য নয় এমন ব্যক্তি মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁকে ছয় মাসের মধ্যে পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে আসতে হয়। মন্ত্রীসভার ওপর পার্লামেন্টের সব চাইতে বড় নিয়ন্ত্রণ হল মন্ত্রীসভাকে সর্বদা নিম্নকক্ষ লোকসভার আস্থাভাজন থাকতে হয়। লোকসভার আস্থা হারালে সরকারের পতন হয়। অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য সব বিল পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস না হলে আইনে পরিণত হয় না। তাই লোকসভায় গরিষ্ঠতা থাকলেও অনেক সময় রাজ্যসভায় সরকারের গরিষ্ঠতা না থাকলে আইন পাসের ক্ষেত্রে সরকারকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এইভাবে মন্ত্রীসভা গঠন, নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট মন্ত্রীসভাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ:
পার্লামেন্টে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, প্রস্তাব উত্থাপন, বিতর্ক, কোনো বিলের ওপর আলোচনা, নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ, অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন প্রভৃতির মাধ্যমে বিরোধী দল শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট ইত্যাদি পার্লামেন্টে আলোচনা, সমালোচনার মাধ্যমেও শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা:
অর্থবিল শুধুমাত্র লোকসভাতেই উত্থাপন করা যায়। কোনো বিল অর্থবিল কিনা সে বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের মতামতই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। অর্থবিলের ব্যাপারে রাজ্যসভার কোনো ভূমিকা নেই। প্রথা মাফিক অর্থবিল রাজ্যসভায় প্রেরিত হয় এবং ১৪ দিনের মধ্যে ফেরৎ না হলে উভয় কক্ষে তা গৃহীত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। নতুন কর ধার্য, পুরানো করের পুনর্বিন্যাস, কোনো করের বিলোপসাধন প্রভৃতি ব্যাপারে লোকসভা তথা পার্লামেন্টের অনুমোদন একান্ত আবশ্যিক। লোকসভার অনুমোদন ব্যতীত সরকার কোনরূপ অর্থব্যয় করতে পারে না।
নির্বাচন ও পদচ্যুত করার ক্ষমতা:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পার্লামেন্টের দুটি কক্ষের নির্বাচিত সদস্যরা ভোটদানের অধিকারী। উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন শুধুমাত্র পার্লামেন্টের দুটি কক্ষের সদস্যদের দ্বারাই অনুষ্ঠিত হয়। উপরাষ্ট্রপতির পদচ্যুতিও পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করার জন্য ‘মহাবিচার পদ্ধতি’ প্রয়োগ করে পার্লামেন্ট। এছাড়া সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিগণ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, CAG প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীগণকে পদচ্যুত করার প্রস্তাব পার্লামেন্টেই গৃহীত হয়।
বিচার বিষয়ক ক্ষমতা:
আইনসভার অবমাননা অথবা অধিকারভঙ্গের অভিযোগে পার্লামেন্ট সদস্য বা সদস্য নয় এমন যে কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারে। কোনো নিম্ন আদালতকে হাইকোর্টে উন্নীত করা, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হাইকোর্ট স্থাপন করা বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের হাইকোর্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি কাজ ও পার্লামেন্টের এক্তিয়ারের অধীন।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা:
নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয় ছাড়া পার্লামেন্ট অবশিষ্ট সমস্ত বিষয়ে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে রাজ্য বিধানসভাগুলিরও অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
জরুরী অবস্থার ঘোষণা:
তিন ধরনের জরুরি অবস্থা যথা জাতীয় জরুরি অবস্থা, রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থা এবং আর্থিক জরুরি অবস্থার মধ্যে যে কোনো ধরনের জরুরি অবস্থা ঘোষিত হলে তা পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে অনুমোদিত হতে হয়।
জনমত গঠন:
পার্লামেন্টে কোনো বিলের ওপর আলাপ আলোচনা, বিতর্ক প্রভৃতির মাধ্যমে জনগণ সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। বিভিন্ন মন্ত্রী ও সদস্যদের প্রশ্নোত্তর-এর মাধ্যমে জনগণের রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।
অন্যান্য ক্ষমতা:
নতুন রাজ্যগঠন বা পুনর্গঠন, রাজ্য আইনসভার দ্বিতীয় কক্ষ গঠন বা বিলোপসাধন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের অধীনে চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
উপসংহার:
ভারতের পার্লামেন্ট দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা হিসেবে ব্যাপক ক্ষমতা ও দায়িত্ব বহন করে। আইন প্রণয়ন ছাড়াও এটি সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে প্রশ্নোত্তর পর্ব, আলোচনা, অনাস্থা প্রস্তাব ও বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে। বিশেষ করে লোকসভা সরকারের প্রতি প্রত্যক্ষভাবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
পার্লামেন্টের আর্থিক ক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বার্ষিক বাজেট পাস করা, কর আরোপ এবং সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন পার্লামেন্টের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। অর্থ বিল কেবল লোকসভায় উত্থাপিত হতে পারে, যা নিম্নকক্ষের বিশেষ গুরুত্ব নির্দেশ করে।
এছাড়া সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতাও পার্লামেন্টের হাতে ন্যস্ত। প্রয়োজন অনুসারে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করে দেশের পরিবর্তিত প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা হয়। রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও অপসারণ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়া—এসব ক্ষেত্রেও পার্লামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায়, ভারতের পার্লামেন্ট গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। এর গঠন জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে এবং এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে সহায়তা করে। একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পার্লামেন্টই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে।
ভারতের পার্লামেন্টের গঠন ও ভারতের পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলী – ১০ FAQ:
১. ভারতের পার্লামেন্ট কী?
Parliament of India হলো ভারতের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। এটি দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি এবং জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণ করে। পার্লামেন্টের প্রধান কাজ হলো নতুন আইন তৈরি করা, পুরোনো আইন সংশোধন করা, দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ করা এবং সরকারের কার্যক্রমের উপর নজরদারি রাখা। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্ট দেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
২. ভারতের পার্লামেন্ট কতটি অংশ নিয়ে গঠিত?
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্ট তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত—
- President of India
- Lok Sabha
- Rajya Sabha
এই তিনটি অংশ মিলেই ভারতের পার্লামেন্ট গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি আইন অনুমোদন করেন, লোকসভা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং রাজ্যসভা রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব করে।
৩. লোকসভা কী এবং এর ভূমিকা কী?
Lok Sabha হলো পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ এবং এটি জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। লোকসভার সদস্যরা সাধারণত পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। লোকসভার প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা, বাজেট পাস করা এবং সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করার ক্ষমতাও লোকসভার রয়েছে।
৪. রাজ্যসভা কী এবং এর গুরুত্ব কী?
Rajya Sabha হলো ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ। এটি রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব করে এবং একটি স্থায়ী কক্ষ হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি কখনও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হয় না। প্রতি দুই বছর অন্তর এর এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর গ্রহণ করেন। রাজ্যসভা আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. ভারতের পার্লামেন্টের প্রধান আইন প্রণয়ন ক্ষমতা কী?
পার্লামেন্টের প্রধান কাজ হলো দেশের জন্য নতুন আইন তৈরি করা এবং পুরোনো আইন সংশোধন বা বাতিল করা। সংসদে বিল উত্থাপন করা হয় এবং দুই কক্ষে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে তা আইনে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ম ও নীতি নির্ধারণ করা হয়।
৬. পার্লামেন্টের আর্থিক ক্ষমতা কী?
ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রতি বছর সরকার যে বাজেট পেশ করে, তা সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে পাস করতে হয়। কর আরোপ, কর বৃদ্ধি বা হ্রাস এবং সরকারি ব্যয় নির্ধারণের ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতে থাকে।
৭. পার্লামেন্ট কীভাবে সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখে?
পার্লামেন্ট বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারের উপর নজরদারি করে। যেমন— প্রশ্নোত্তর পর্ব, আলোচনা, স্থগিতাদেশ প্রস্তাব এবং অনাস্থা প্রস্তাব। এই ব্যবস্থাগুলির মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা সরকারের কাজকর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারেন এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেন।
৮. সংবিধান সংশোধনে পার্লামেন্টের ভূমিকা কী?
ভারতের সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করার ক্ষমতা পার্লামেন্টের রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির বিধানসভাগুলির অনুমোদনও প্রয়োজন হয়।
৯. পার্লামেন্টের বিচারিক ক্ষমতা কী?
পার্লামেন্টের কিছু বিচারিক ক্ষমতাও রয়েছে। যেমন— রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানো এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করা। এই ক্ষমতাগুলি দেশের সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
১০. ভারতের পার্লামেন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পার্লামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশের আইন, অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ করে। পার্লামেন্ট সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে।