ভূমিকা:
জীবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উদ্দীপকে সাড়া দেওয়া, যার প্রধান মাধ্যম হলো চলন ও গমন। পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন বা শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজনে চলন ও গমন প্রক্রিয়াটি ঘটে থাকে। সাধারণত একস্থানে স্থির থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করাকে চলন এবং স্থান পরিবর্তন করাকে গমন বলা হলেও, জীববিজ্ঞানে চলন ও গমন শব্দ দুটি গভীরভাবে সম্পর্কিত। উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষেত্রে চলন ও গমন এর কৌশল সম্পূর্ণ আলাদা। পরীক্ষায় ভালো ফল করতে এবং জীবদেহের এই প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে চলন ও গমন বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষেত্রে এই জীবনপ্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে সম্পন্ন হয়। সাধারণত উদ্ভিদ স্থির একস্থানে আবদ্ধ থেকে ডালপালা ও পাতার মাধ্যমে চলন সম্পন্ন করে, অন্যদিকে প্রাণীরা খাদ্য, আশ্রয় ও আত্মরক্ষার তাগিদে সক্রিয়ভাবে একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করে। জীবন বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো ফল করতে এবং জীবদেহের এই যান্ত্রিকতা বুঝতে চলন ও গমন সম্পর্কিত স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

চলন ও গমন বলতে কী বোঝায়?
জীববিজ্ঞানে এই দুটি শব্দ চলন ও গমন প্রায় একসাথে ব্যবহৃত হলেও এদের মধ্যে সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
- চলন (Movement): যে প্রক্রিয়ায় জীব নির্দিষ্ট স্থানে স্থির থেকে অথবা একস্থানে আবদ্ধ থেকে উদ্দীপকের প্রভাবে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে, তাকে চলন বলে।
- গমন (Locomotion): যে প্রক্রিয়ায় জীব উদ্দীপকের প্রভাবে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে সমগ্র দেহকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তরিত করে, তাকে গমন বলে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: “চলন হলে গমন হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, কিন্তু গমন হলে অবশ্যই চলন হবে।”
আরো পড়ুন: উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্য ও পুষ্টি:
উদ্ভিদের চলন ও গমন:
উদ্ভিদ সাধারণত একস্থানে আবদ্ধ থাকে। তবে কিছু নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ গমনে সক্ষম, আবার বেশিরভাগ উন্নত উদ্ভিদ কেবল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাকিয়ে চলন সম্পন্ন করে। উদ্ভিদের চলনকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
উদ্ভিদের চলন
│
┌───────────────┴───────────────┐
সামগ্রিক চলন (গমন) বক্র চলন (Curvature)
│ │
┌────┴────┐ ┌────┴────┐
স্বতঃস্ফূর্ত ট্যাকটিক স্বতঃস্ফূর্ত আবিষ্ট
সামগ্রিক চলন বা গমন-জনিত চলন (Movement of Locomotion)
যেসব উদ্ভিদ (মূলত এককোষী বা নিম্নশ্রেণীর) একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করতে পারে, তাদের সামগ্রিক চলন বলে।
- স্বতঃস্ফূর্ত সামগ্রিক চলন (Spontaneous Movement): কোনো বহিস্থ উদ্দীপক ছাড়াই প্রোটোপ্লাজমের স্বতঃস্ফূর্ত সঞ্চালনে ঘটে।
- আবর্ত চলন (Cyclosis): কোষের প্লাজমে ঘটা চলন। যেমন—ঘাস বা ভ্যালিসনেরিয়া (Vallisneria) কোষে।
- অ্যামিবয়েড চলন (Ameboid): ক্ষণপদ (Pseudopodia) সৃষ্টির মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন। যেমন—মাইক্সোমাইসিটিস (Myxomycetes)।
- সিলিয়ারী চলন (Ciliary): সিলিয়া বা ফ্ল্যাজেল্লার সাহায্যে চলন। যেমন—ভলভক্স (Volvox), ক্ল্যামাইডোমোনাস (Chlamydomonas)।
- ট্যাকটিক বা উদ্দীপক নির্ভর সামগ্রিক চলন (Tactic Movement): বহিস্থ উদ্দীপকের (আলো, তাপমাত্রা, রাসায়নিক পদার্থ) প্রভাবে ঘটে।
- ফোটোট্যাকটিক (Phototactic): আলোর উদ্দীপনায় সামগ্রিক স্থানান্তর। (উদাহরণ: ক্ল্যামাইডোমোনাস আলোর দিকে গমন করে)।
- কেমোট্যাকটিক (Chemotactic): রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে ঘটে। (উদাহরণ: সূক্ষ্ম শর্করার আকর্ষণে ফার্নের শুক্রাণু ডিম্বাণুর দিকে ধাবিত হয়)।
- থার্মোট্যাকটিক (Thermotactic): তাপমাত্রার প্রভাবে চলন।
- গ্যালভানোট্যাকটিক (Galvanotactic): বৈদ্যুতিক প্রবাহের প্রভাবে চলন।
বক্র চলন (Movement of Curvature)
অধিকাংশ উদ্ভিদ একস্থানে স্থির থেকে উদ্দীপকের প্রভাবে বা বৃদ্ধির ফলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাঁকায়।
- স্বতঃস্ফূর্ত বক্র চলন:
- পরিবর্তনজনিত চলন (Movement of Variation): কোষের রসস্ফীতি চাপের হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে ঘটে। (উদাহরণ: বনচাঁড়াল বা Desmodium gyrans-এর পাতায় ভারতীয় টেলিগ্রাফ গাছের মতো চলন)।
- বৃদ্ধিজনিত চলন (Movement of Growth): কাণ্ড ও মূলের অসমান বৃদ্ধির ফলে ঘটে। (যেমন—নুটেশন, সারকামনুটেশন, হাইপোনাস্টি, এপিনাস্টি)।
- আবিষ্ট বক্র চলন (Induced Curvature Movement):
- ট্রপিক চলন (Tropic Movement): উদ্দীপকের গতিপথ অনুযায়ী ঘটে।
- ফোটোট্রপিক: আলোর গতিপথ অনুযায়ী। (কাণ্ড আলোমুখী, মূল আলোবিপরীতমুখী)।
- জিওট্রপিক: অভিকর্ষের গতিপথ অনুযায়ী। (মূল অভিকর্ষমুখী, কাণ্ড অভিকর্ষবিপরীতমুখী)।
- হাইড্রোট্রপিক: জলের উৎস অনুযায়ী।
- হ্যাপটোট্রপিক/স্পর্শবৃত্তি: স্পর্শের প্রভাবে লতার আকর্ষ জড়িয়ে ধরা।
- ন্যাস্টিক চলন (Nastic Movement): উদ্দীপকের তীব্রতা অনুযায়ী ঘটে (গতিপথ নয়)।
- সিসমোন্যাস্টি: স্পর্শ বা কম্পনে ঘটে। (উদাহরণ: লজ্জাবতী পাতা স্পর্শ করলে মুদে যায়)।
- ফোটোন্যাস্টি: আলোর তীব্রতায় পদ্ম বা সূর্যমুখী ফোটা ও বোজা।
- থার্মোন্যাস্টি: টিউলিপ ফুল বেশি তাপে ফোটা, কম তাপে বোজা।
- নিকটিন্যাস্টি (Sleeping Movement): আলো ও তাপের যৌথ প্রভাবে বাবলা বা রাধাচূড়ার পাতা রাতে মুদে যাওয়া।
- কেমোন্যাস্টি: সূর্যশিশির উদ্ভিদে পতঙ্গ স্পর্শ করলে পাতার রোম বেঁকে যাওয়া।
- ট্রপিক চলন (Tropic Movement): উদ্দীপকের গতিপথ অনুযায়ী ঘটে।
প্রাণীর গমন ও গমন অঙ্গ:
প্রাণীরা খাদ্য অনুসন্ধান, প্রজনন এবং শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য সক্রিয়ভাবে গমন করে। বিভিন্ন প্রাণীর গমন অঙ্গ ও গমন পদ্ধতি নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| প্রাণী | গমন অঙ্গ (Locomotor Organ) | গমন পদ্ধতি (Locomotion Method) |
| অ্যামিবা | ক্ষণপদ (Pseudopodia) | অ্যামিবয়েড গতি |
| প্যারামেসিয়াম | সিলিয়া (Cilia) | সিলিয়ারী গতি |
| ইউগ্লিনা | ফ্ল্যাজেল্লা (Flagella) | ফ্ল্যাজেলীয় গতি |
| হাইড্রা | কর্ষিকা / পেশী | লুপিং, সামারসল্টিং |
| কেঁচো | সিটা (Setae) | ক্রিপিং (Creeping) |
| শামুক / ঝিনুক | মাংসল পদ (Muscular Foot) | গ্লাইডিং / স্লিপিং |
| তারা মাছ | টিউব ফিট (Tube Feet) | লুপিং |
| মাছ | পাকনা ও মায়োটোম পেশী | সাঁতার (Swimming) |
| পাখি | ডানা, পালক (রেমিজেস ও রেকট্রিজেস) | উড্ডয়ন (Flying) |
| মানুষ | হাত ও পা (দ্বিপদ গমন) | ওয়াকিং, রানিং |
মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র ও পেশী:
মানুষের গমনে কঙ্কালতন্ত্র (অস্থিসন্ধি) এবং পেশীতন্ত্রের ভূমিকা অপরিসীম।
মানবদেহের অস্থি সম্পর্কিত তথ্য
- একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি অস্থি থাকে (শিশুর দেহে প্রায় ৩৫০টি)।
- দেহের সবচেয়ে বড় অস্থি: ফিমার (ঊরু বা উরুঅস্থি)।
- দেহের সবচেয়ে ছোট অস্থি: স্টেপিস (কর্ণে অবস্থিত)।
- দেহের সবচেয়ে ছোট পেশী: সিলিয়ারী পেশী (চোখে অবস্থিত) বা স্টেপেডিয়াস।
- দেহের সবচেয়ে বড় পেশী: সারটোরিয়াস।
গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধি (Joints)
- বল ও সকেট সন্ধি (Ball and Socket Joint): কাঁধ ও উরুর সন্ধি (চারিদিকে ঘোরানো যায়)।
- কবজা সন্ধি (Hinge Joint): হাঁটু ও কনুইয়ের সন্ধি (একদিকে বাঁকানো যায়)।
- পিভট সন্ধি (Pivot Joint): প্রথম ও দ্বিতীয় কশেরুকার সংযোগস্থল।
গমনে সহায়ক পেশী ও কলা
- টেন্ডন (Tendon): পেশীকে অস্থির সাথে যুক্ত করে।
- লিগামেন্ট (Ligament): দুটি অস্থিকে একসাথে যুক্ত রাখে।
- সাইনোভিয়াল ফ্লুইড (Synovial Fluid): অস্থিসন্ধির ঘর্ষণ রোধে তরল হিসেবে কাজ করে।
এক নজরে চলন ও গমন -এর প্রধান পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | চলন (Movement) | গমন (Locomotion) |
| স্থান পরিবর্তন | স্থান পরিবর্তন ঘটে না। | স্থান পরিবর্তন ঘটে। |
| নির্ভরশীলতা | গমনের ওপর নির্ভর করে না। | গমনের জন্য চলন আবশ্যক। |
| উদ্দেশ্য | অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন ও উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া। | খাদ্য, আশ্রয়, আত্মরক্ষা ও প্রজনন। |
| সংগঠন | অধিকাংশ উদ্ভিদে ও সব প্রাণীতে দৃশ্যমান। | মূলত প্রাণীদের এবং নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদে দৃশ্যমান। |
আরো পড়ুন: জীবনের প্রবাহমানতা:
উপসংহার:
জীবের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য চলন ও গমন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। উদ্ভিদকুল যেখানে স্থান স্থির রেখে আলোক, অভিকর্ষ বা স্পর্শের উদ্দীপনায় নিজেদের মানিয়ে নেয়; প্রাণীকুল সেখানে কঙ্কাল ও পেশীতন্ত্রের সাহায্যে সক্রিয়ভাবে স্থান পরিবর্তন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম বজায় রাখে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য উদ্ভিদের বিভিন্ন ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলন এবং প্রাণীদের গমন অঙ্গের নামগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করা যায়, এই নিবন্ধটি চলন ও গমন সংক্রান্ত সকল ধারণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।
চলন ও গমন (Movement and Locomotion) বিষয়ের শীর্ষ ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:
- চলন ও গমন -এর প্রধান পার্থক্য কী?
- চলন: জীব একস্থানে স্থির থেকে দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে। গমন: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে জীব একস্থান থেকে অন্যস্থানে সামগ্রিকভাবে স্থানান্তরিত হয়।
- গমন ছাড়া কি চলন সম্ভব?
- হ্যাঁ, সম্ভব। বেশিরভাগ উদ্ভিদ একস্থানে আবদ্ধ থেকেই ডালপালা বা পাতা নাড়িয়ে চলন সম্পন্ন করে।
- চলন ছাড়া কি গমন সম্ভব?
- না, সম্ভব নয়। কারণ গমনের জন্য দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা গমন অঙ্গের সঞ্চালন অর্থাৎ চলন আবশ্যক।
- উদ্ভিদের ট্রপিক চলন (Tropic Movement) কাকে বলে?
- উদ্দীপকের গতিপথ বা উৎসের দিক অনুযায়ী উদ্ভিদের অঙ্গের যে বৃদ্ধিজনিত বক্র চলন ঘটে, তাকে ট্রপিক চলন বলে (যেমন—আলোর দিকে বিটপের বৃদ্ধি)।
- উদ্ভিদের ন্যাস্টিক চলন (Nastic Movement) কী?
- উদ্দীপকের তীব্রতা বা মাত্রার ওপর নির্ভর করে উদ্ভিদের যে বক্র চলন ঘটে, তাকে ন্যাস্টিক চলন বলে (যেমন—আলোর তীব্রতায় পদ্মফুল ফোটা)।
- লজ্জাবতী পাতা স্পর্শ করলে মুদে যায় কেন?
- স্পর্শের প্রভাবে পাতার গোড়ায় থাকা রসস্ফীতি চাপ (Turgor Pressure) দ্রুত কমে যায়। এটি একধরনের সিসমোন্যাস্টিক (Seismonastic) চলন।
- উদ্ভিদের নিশাচল বা স্লিপিং মুভমেন্ট (Nyctinasty) কী?
- আলো ও তাপমাত্রার যৌথ প্রভাবে দিন ও রাতের পরিবর্তনের সাথে উদ্ভিদের পাতার মেলা বা মুদে যাওয়ার ঘটনাকে নিশাচল চলন বলে (যেমন—রাতে বাবলা বা তেঁতুল পাতা মুদে যাওয়া)।
- অ্যামিবার গমন অঙ্গের নাম কী?
- ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া (Pseudopodia), যার সাহায্যে অ্যামিবা অ্যামিবয়েড গতিতে চলে।
- প্যারামেসিয়াম কীভাবে গমন করে?
- প্যারামেসিয়াম তার দেহের উপরিভাগে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিলিয়া (Cilia) সঞ্চালনের মাধ্যমে জলে সাঁতার কাটে।
- ইউগ্লিনার গমন অঙ্গ কোনটি?
- চাবুকের মতো দেখতে ফ্ল্যাজেল্লা (Flagella)।
- মাছের সাঁতারে মায়োটোম পেশীর ভূমিকা কী?
- মেরুদণ্ডের দু-পাশে থাকা ‘V’ আকৃতির মায়োটোম পেশীর পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে মাছ জলে তরঙ্গায়িত গতিতে এগিয়ে যায়।
- পাখির উড্ডয়ন পালকগুলোকে কী বলে?
- ডানায় থাকা পালকগুলোকে রেমিজেস (২৩টি) এবং লেজে থাকা পালকগুলোকে রেকট্রিজেস (১২টি) বলা হয়।
- কেঁচোর গমন অঙ্গ ও গমন পদ্ধতি কী?
- কেঁচোর গমন অঙ্গ হলো সিটা (Setae) এবং এটি ক্রিপিং বা সংকোচন-প্রসারণ পদ্ধতিতে গমন করে।
- মানবদেহে মোট অস্থির (হাড়) সংখ্যা কত?
- একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি অস্থি থাকে (শিশুর দেহে প্রায় ৩৫০টি থাকে, যা বড় হওয়ার সাথে সাথে যুক্ত হয়ে যায়)।
- মানবদেহের সবচেয়ে বড় অস্থির নাম কী?
- ফিমার (Femur) বা ঊরুঅস্থি।
- মানবদেহের সবচেয়ে ছোট অস্থি কোনটি?
- মধ্যকর্ণে অবস্থিত স্টেপিস (Stapes)।
- টেন্ডন ও লিগামেন্টের কাজ কী?
- টেন্ডন: পেশীকে অস্থির সাথে যুক্ত করে। লিগামেন্ট: একটি অস্থিকে অন্য অস্থির সাথে যুক্ত রাখে।
- কাঁধ ও উরুতে কোন ধরনের অস্থিসন্ধি থাকে?
- বল ও সকেট সন্ধি (Ball and Socket Joint), যা চারদিকে ঘোরানো যায়।
- হাঁটু ও কনুইয়ে কোন ধরণের সন্ধি দেখা যায়?
- কবজা সন্ধি (Hinge Joint), যা দরজার কবজার মতো একদিকে বাঁকানো যায়।
- অস্থিসন্ধির ঘর্ষণ রোধে কোন তরল কাজ করে?
- সাইনোভিয়াল ফ্লুইড (Synovial Fluid), যা অস্থিসন্ধিকে মসৃণ রাখে এবং ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।