মহাবীর ও জৈন ধর্ম : ইতিহাস, দর্শন ও শিক্ষা. Mahavira and Jainism.

মহাবীর ও জৈন ধর্ম : ইতিহাস, দর্শন ও শিক্ষা. Mahavira and Jainism.

Table of Contents

ভূমিকা:

প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মহাবীর ও জৈন ধর্ম এক গভীর প্রভাব বিস্তার করে আছে। অনেকে মনে করেন জৈন ধর্ম বৌদ্ধ ধর্মের সমসাময়িক বা তার পরবর্তী কোনো মতবাদ, কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য হলো জৈন ধর্ম অত্যন্ত প্রাচীন। জৈন শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত ‘জিন’ শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো ‘বিজেতা’। এখানে বিজেতা মানে কোনো রাজ্য জয়ী রাজা নয়, বরং যিনি নিজের কাম, ক্রোধ, লোভ এবং মোহকে জয় করেছেন। জৈন ধর্মমতে, সত্যের পথ প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন যুগে ২৪ জন মহাপুরুষ আবির্ভূত হয়েছেন, যাদের ‘তীর্থঙ্কর’ বলা হয়। ‘তীর্থ’ মানে সংসার সমুদ্র পার হওয়ার ঘাট বা পথ, আর ‘ঙ্কর’ মানে নির্মাতা। অর্থাৎ যারা মানুষকে সংসার থেকে মুক্তির পথ দেখান, তারাই তীর্থঙ্কর।

প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভদেব থেকে শুরু করে ২৩তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ পর্যন্ত এই ধর্ম একটি সুশৃঙ্খল ধারায় প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে মহাবীরের আবির্ভাব এই ধর্মকে একটি সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করে। জৈন ধর্ম কেবল ভারত নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধর্ম যা আজও তার মৌলিক আদর্শ—অহিংসাকে কঠোরভাবে পালন করে আসছে। এই ধর্মীয় দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো আত্মার মুক্তি বা মোক্ষ লাভ করা। মহাবীর ও জৈন ধর্ম কেবল ত্যাগের কথা বলে না, এটি প্রতিটি ক্ষুদ্র প্রাণীর অস্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শেখায়। আধুনিক পৃথিবীতে পরিবেশ বিপর্যয় এবং যুদ্ধের আবহে মহাবীরের শিক্ষাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। এই নিবন্ধে আমরা মহাবীরের জীবনী থেকে শুরু করে জৈন ধর্মের গভীর দর্শন পর্যন্ত প্রতিটি দিক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

জৈন ধর্ম

জৈন ধর্মের উৎপত্তি ও তীর্থঙ্করগণ:

জৈন ধর্ম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধর্ম। ‘জৈন’ শব্দটি এসেছে ‘জিন’ থেকে, যার অর্থ হলো ‘বিজেতা’ (যিনি নিজের ইন্দ্রিয়কে জয় করেছেন)। জৈন ধর্মে মোট ২৪ জন তীর্থঙ্কর বা পথপ্রদর্শকের কথা বলা হয়েছে।

  • প্রথম তীর্থঙ্কর: ঋষভদেব (আদিনাথ)।
  • ২৩তম তীর্থঙ্কর: পার্শ্বনাথ (তিনি মহাবীরের ২৫০ বছর আগে আবির্ভূত হন)।
  • ২৪তম তীর্থঙ্কর: বর্ধমান মহাবীর (যিনি এই ধর্মকে চূড়ান্ত রূপ দেন)।

মহাবীরের জীবন:

মহাবীর খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে লিচ্ছবি রাজ্যের ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

জন্ম ও বাল্যকাল

মহাবীর আনুমানিক ৫৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বৈশালীর নিকটবর্তী কুণ্ডগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল সিদ্ধার্থ এবং মাতার নাম ত্রিশলা। তাঁর শৈশবের নাম ছিল বর্ধমান

গৃহত্যাগ ও সাধনা

৩০ বছর বয়সে তিনি সংসার ত্যাগ করেন এবং সত্যের সন্ধানে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। টানা ১২ বছর কৃচ্ছ্রসাধনার পর ঋজুপালিকা নদীর তীরে একটি শাল গাছের নিচে তিনি কৈবল্য বা পরম জ্ঞান লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি ‘মহাবীর’ এবং ‘জিন’ নামে পরিচিত হন।

নির্বাণ

৭২ বছর বয়সে ৪৬৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিহারের পাওয়াপুরিতে এই মহান সাধক দেহত্যাগ করেন (নির্বাণ লাভ)।

জৈন ধর্মের মূল শিক্ষা ও দর্শন:

মহাবীর কোনো নতুন ধর্ম প্রচার করেননি, বরং পার্শ্বনাথের শিক্ষার সংস্কার করেছিলেন। তাঁর দর্শনের মূল ভিত্তি হলো পঞ্চমহাব্রত

পঞ্চমহাব্রত (Five Main Vows)

পার্শ্বনাথ ৪টি নীতি দিয়েছিলেন, মহাবীর তার সঙ্গে ৫মটি (ব্রহ্মচর্য) যুক্ত করেন:

  1. অহিংসা: কোনো প্রাণীকে হত্যা না করা।
  2. সত্য: সর্বদা সত্য কথা বলা।
  3. অচৌর্য: চুরি না করা।
  4. অপরিগ্রহ: অতিরিক্ত সম্পত্তি সঞ্চয় না করা।
  5. ব্রহ্মচর্য: সংযত জীবনযাপন করা।

ত্রিরত্ন (Three Jewels)

জৈন ধর্মের মোক্ষ বা মুক্তি লাভের জন্য তিনটি রত্ন অনুসরণ করা আবশ্যক:

  • সৎ বিশ্বাস (Samyak Darshana)
  • সৎ জ্ঞান (Samyak Jnana)
  • সৎ আচরণ (Samyak Charitra)

জৈন ধর্মের বিভাজন: শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর

মহাবীরের মৃত্যুর প্রায় ২০০ বছর পর জৈন ধর্ম দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়:

বৈশিষ্ট্যশ্বেতাম্বর (Shwetambara)দিগম্বর (Digambara)
বস্ত্রসাদা বস্ত্র পরিধান করেন।নগ্ন থাকেন (আকাশই যাদের বস্ত্র)।
নেতৃত্বস্থূলভদ্রের অনুগামী।ভদ্রবাহুর অনুগামী।
নারী মুক্তিবিশ্বাস করেন নারীরাও মোক্ষ পেতে পারেন।বিশ্বাস করেন মোক্ষ পেতে পুরুষ হয়ে জন্মানো জরুরি।

জৈন শাস্ত্রগুলোকে সংকলিত করার জন্য দুটি বড় সম্মেলন বা সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়েছিল:

  1. প্রথম সংগীতি: পাটলিপুত্রে (খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতক), স্থূলভদ্রের নেতৃত্বে। এখানে ১২টি ‘অঙ্গ’ সংকলিত হয়।
  2. দ্বিতীয় সংগীতি: বল্লভীতে (৫১২ খ্রিস্টাব্দ), দেবর্ষি ক্ষমশ্রমণের নেতৃত্বে।

জৈন ধর্মের গুরুত্ব ও বর্তমান সমাজে প্রভাব:

মহাবীরের প্রচারিত অহিংসা পরম ধর্ম নীতিটি কেবল ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মূলে ছিল এই জৈন অহিংসা নীতি। এছাড়া নিরামিষ আহার এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে জৈন দর্শন অত্যন্ত আধুনিক।

কেন মহাবীর ও জৈন ধর্ম আজও প্রাসঙ্গিক?

  • অহিংসা: যুদ্ধের এই যুগে শান্তি স্থাপনের একমাত্র পথ।
  • অপরিগ্রহ: ভোগবাদের যুগে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ব্যবহারের শিক্ষা।
  • অনেকান্তবাদ: অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো বা বহুত্ববাদে বিশ্বাস।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় যে, মহাবীর ও জৈন ধর্ম কেবল প্রাচীন ভারতের একটি ইতিহাস নয়, বরং এটি মানব সভ্যতার এক চিরন্তন নৈতিক সংহিতা। মহাবীর যে সত্য, অহিংসা এবং ত্যাগের বাণী প্রচার করেছিলেন, তা আজ হাজার বছর পরেও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমানের ভোগবাদী সমাজে যেখানে মানুষের চাহিদার কোনো শেষ নেই, সেখানে মহাবীরের ‘অপরিগ্রহ’ বা অতিরিক্ত সম্পদ ত্যাগের শিক্ষা আমাদের মিতব্যয়ী ও সুখী হতে সাহায্য করে। তাঁর প্রচারিত ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’ (Live and Let Live) নীতিটি কেবল ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবেশ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক পরম বৈজ্ঞানিক সত্য। যখন আমরা অন্যের অস্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানাব, তখনই পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। মহাবীর শিখিয়েছেন যে, প্রকৃত বীর তিনি নন যিনি যুদ্ধে অন্যকে পরাজিত করেন, বরং প্রকৃত বীর তিনিই যিনি নিজের ইন্দ্রিয় এবং রিপুগুলোকে জয় করতে পারেন।

জৈন দর্শনের ‘অনেকান্তবাদ’ বা মতভেদের সহনশীলতা আজকের অসহিষ্ণু পৃথিবীতে অত্যন্ত জরুরি। এটি আমাদের শেখায় যে সত্যের অনেকগুলো দিক থাকতে পারে এবং অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সভ্যতার প্রধান লক্ষণ। মহাবীর ও জৈন ধর্মের প্রভাব ভারতের শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর যে গভীর ছাপ ফেলেছে, তা আজও আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহাবীরের নির্বাণ লাভের কয়েক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তাঁর দেখানো পথ আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। হিংসা ও যুদ্ধের এই সংকটে মহাবীরের অহিংসা মন্ত্রই হতে পারে মানবজাতির টিকে থাকার একমাত্র উপায়। তাই মহাবীরের শিক্ষা কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের অন্তরে ধারণ করার জন্য। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা যদি নিজেদের জীবনকে গড়ে তুলতে পারি, তবেই একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন এবং শান্তিময় বিশ্ব গঠন করা সম্ভব হবে।

মহাবীর এবং জৈন ধর্ম ভারতের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আপনার ব্লগের জন্য উপযোগী মহাবীর ও জৈন ধর্ম সম্পর্কিত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ) নিচে দেওয়া হলো:

মহাবীর ও জৈন ধর্ম: ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১. জৈন ধর্মের প্রবর্তক বা প্রথম তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?

উত্তর: জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর ছিলেন ঋষভদেব (আদিনাথ)।

২. জৈন ধর্মে মোট কতজন তীর্থঙ্কর ছিলেন?

উত্তর: জৈন ধর্মে মোট ২৪ জন তীর্থঙ্কর ছিলেন।

৩. জৈন ধর্মের প্রকৃত প্রবর্তক বা শেষ তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?

উত্তর: ২৪তম তথা শেষ তীর্থঙ্কর বর্ধমান মহাবীর ছিলেন জৈন ধর্মের প্রকৃত প্রবর্তক।

৪. মহাবীর কোথায় এবং কবে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: মহাবীর আনুমানিক ৫৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বৈশালীর নিকটবর্তী কুণ্ডগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

৫. মহাবীরের পিতা ও মাতার নাম কী ছিল?

উত্তর: মহাবীরের পিতার নাম ছিল সিদ্ধার্থ এবং মাতার নাম ছিল ত্রিশলা

৬. মহাবীর কোন বংশের রাজপুত্র ছিলেন?

উত্তর: তিনি জ্ঞাতৃ বংশের (Jnatrika clan) রাজপুত্র ছিলেন।

৭. মহাবীরের বাল্যনাম বা প্রকৃত নাম কী ছিল?

উত্তর: মহাবীরের প্রকৃত নাম ছিল বর্ধমান

৮. মহাবীর কত বছর বয়সে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন?

উত্তর: তিনি ৩০ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন।

৯. মহাবীর কত বছর কঠোর তপস্যার পর ‘কৈবল্য’ বা পরম জ্ঞান লাভ করেন?

উত্তর: দীর্ঘ ১২ বছর কঠোর তপস্যার পর ৪২ বছর বয়সে তিনি পরম জ্ঞান বা কৈবল্য লাভ করেন।

১০. মহাবীর কোন নদীর তীরে জ্ঞান লাভ করেছিলেন?

উত্তর: তিনি ঋজুপালিকা নদীর তীরে একটি শাল গাছের নিচে দিব্যজ্ঞান লাভ করেন।

১১. ‘জৈন’ শব্দটি কোথা থেকে এসেছে?

উত্তর: ‘জৈন’ শব্দটি সংস্কৃত শব্দ ‘জিন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘বিজেতা’ (যিনি নিজের ইন্দ্রিয়কে জয় করেছেন)।

১২. জৈন ধর্মের ‘ত্রিরত্ন’ কী কী?

উত্তর: জৈন ধর্মের তিনটি প্রধান পথ হলো— সৎ বিশ্বাস, সৎ জ্ঞান এবং সৎ আচরণ

১৩. মহাবীর কোন ভাষায় তাঁর ধর্ম প্রচার করতেন?

উত্তর: মহাবীর সাধারণ মানুষের বোধগম্য প্রাকৃত (অর্ধ-মাগধী) ভাষায় ধর্ম প্রচার করতেন।

১৪. জৈন ধর্মের পঞ্চ মহাব্রত কী কী?

উত্তর: অহিংসা, সত্যবাদিতা, অচৌর্য (চুরি না করা), অপরিগ্রহ (সম্পদ ত্যাগ) এবং ব্রহ্মচর্য

১৫. মহাবীর পূর্ববর্তী চারটি ব্রতর সাথে কোন নতুন ব্রতটি যোগ করেছিলেন?

উত্তর: মহাবীর ২৩তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের ‘চতুর্যাম’ নীতির সাথে ‘ব্রহ্মচর্য’ ব্রতটি যোগ করেন।

১৬. জৈনদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কী?

উত্তর: জৈনদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম হলো ‘দ্বাদশ অঙ্গ’

১৭. জৈন ধর্ম কোন দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল?

উত্তর: জৈন ধর্ম শ্বেতাম্বর (যারা সাদা পোশাক পরতেন) এবং দিগম্বর (যারা পোশাক পরিধান করতেন না) এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়।

১৮. প্রথম জৈন সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তর: প্রথম জৈন সম্মেলন পাটলিপুত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার সভাপতিত্ব করেছিলেন স্থুলভদ্র।

১৯. মহাবীর কোথায় দেহত্যাগ (নির্বাণ লাভ) করেন?

উত্তর: মহাবীর ৭২ বছর বয়সে রাজগৃহের নিকটবর্তী পাওয়াপুরী নামক স্থানে দেহত্যাগ করেন।

২০. জৈন স্থাপত্যের একটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কোনটি?

উত্তর: রাজস্থানের মাউন্ট আবুর দিলওয়ারা জৈন মন্দির জৈন স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।