ভূমিকা:
ইতিহাসের পাতায় মধ্যযুগীয় ভারত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গতিশীল অধ্যায়। বিশেষ করে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ‘সুলতানি যুগ‘ ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছিল। প্রাক-সুলতানি আমলের রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও আঞ্চলিক ক্ষমতার কোন্দল দূর করে দিল্লিকে কেন্দ্র করে এক শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
দাস, খিলজি, তুঘলক, সৈয়দ এবং লোদী—এই পাঁচটি রাজবংশের হাত ধরে ৩২০ বছরের দীর্ঘ পথচলায় ভারত এমন এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যায়, যা পরবর্তীতে মুঘল সাম্রাজ্য এবং আধুনিক ভারতের ভিত্তিমূল তৈরিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
ইসলামিক সংস্কৃতি ও সুপ্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য—এই দুটি ভিন্ন ধারার অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোটিই সুলতানি যুগের মূল প্রাণ। প্রশাসনিক সংস্কার, অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা, অর্থনীতিক উদ্ভাবন, শিল্প-স্থাপত্যের সমৃদ্ধি এবং সর্বোপরি সুফি ও ভক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতির বিস্তার এই সময়কে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
আরো পড়ুন: প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা: রাজনৈতিক বিকাশ, শিল্প-স্থাপত্য ও ধর্মের ইতিহাস:

প্রাক-সুলতানি যুগ: মধ্যযুগীয় ভারতের প্রেক্ষাপট:
সুলতানি যুগ (১২০৬ খ্রি.) শুরুর আগের সময়কালকে ইতিহাসে আদি-মধ্যযুগ বা প্রাক-সুলতানি যুগ বলা হয়। এই সময়টিতে ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতি ছিল চরমভাবে বিচ্ছিন্ন, তবে ধর্ম, সাহিত্য ও স্থাপত্যের দিক থেকে সময়টি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
সুলতানি যুগের ঠিক আগের প্রধান ঘটনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:
সম্রাট হর্ষবর্ধনের পতন ও রাজনৈতিক শূন্যতা:
৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের শাসক সম্রাট হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর উত্তর ভারতে কোনো কেন্দ্রীয় শক্তি ছিল না। এর ফলে পুরো ভারত ছোট ছোট অসংখ্য স্বাধীন ও আঞ্চলিক রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
কনৌজের জন্য ত্রিপক্ষীয় সংগ্রাম (৮ম – ১০ম শতক):
উত্তর ভারতের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ‘কনৌজ’ নগরীর আধিপত্য নিয়ে প্রায় ২০০ বছর ধরে ৩টি প্রধান রাজবংশ নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত ছিল:
- পাল বংশ (বাংলা ও বিহার): গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই রাজবংশের আমলে বাংলা বৌদ্ধ ধর্ম, সাহিত্য ও নালন্দা-বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
- গুর্জর-প্রতিহার বংশ (পশ্চিম ও উত্তর ভারত): এরা আরবী আক্রমণকারীদের ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
- রাষ্ট্রকূট বংশ (দাক্ষিণাত্য/দক্ষিণ ভারত): এরা শিল্প-স্থাপত্যে বিশাল অবদান রাখে (যেমন: এলোরার কৈলাশনাথ মন্দির)।
রাজপুত রাজ্যগুলোর উত্থান:
১০ম থেকে ১২ শতকের মধ্যে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে যোদ্ধা রাজপুত জাতিগুলোর দাপট শুরু হয়। এদের প্রধান শাখাগুলো ছিল:
- চৌহান বংশ: দিল্লি ও আজমির অঞ্চল (প্রধান শাসক: পৃথ্বীরাজ চৌহান)।
- পরমার বংশ: মালব অঞ্চল (প্রধান শাসক: রাজা ভোজ)।
- চন্দেল্ল বংশ: বুন্দেলখণ্ড অঞ্চল (যারা বিশ্ববিখ্যাত খাজুরাহো মন্দির নির্মাণ করেন)।
- সোলাঙ্কি বংশ: গুজরাট অঞ্চল।
এরা বীর যোদ্ধা হলেও নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত থাকত, যা বাইরের আক্রমণকারীদের জন্য ভারত জয়ের পথ সহজ করে দেয়।
দক্ষিণ ভারতে চোল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ:
উত্তর ভারত যখন রাজনৈতিক কোন্দলে ব্যস্ত, দক্ষিণ ভারতে তখন চোল রাজবংশ (রাজা রাজা চোল ও রাজেন্দ্র চোল) এক শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তারা শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক এলাকা জয় করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে।
ভারতে প্রাথমিক মুসলিম অভিযান ও তরাইনের যুদ্ধ:
সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল তিনটি প্রধান বৈদেশিক অভিযানের মাধ্যমে:
- সিন্ধু জয় (৭১২ খ্রি.): উমাইয়া খিলাফতের সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু ও মুলতান দখল করেন।
- গজনির সুলতান মাহমুদের আক্রমণ (১০০০ – ১০২৬ খ্রি.): গজনির শাসক মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য রাজ্য বিস্তার নয়, বরং ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করা ছিল (যেমন: ১০২৬ খ্রিস্টাব্দের সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন)। এর ফলে ভারতের রাজপুতদের সামরিক শক্তি অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে।
- মুহাম্মদ ঘুরি ও তরাইনের যুদ্ধ (১১৯১ – ১১৯২ খ্রি.): এটিই ছিল প্রাক-সুলতানি যুগের সবচেয়ে নির্ণায়ক ঘটনা।
- তরাইনের ১ম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.): রাজপুত রাজা তৃতীয় পৃথ্বীরাজ চৌহান মুহাম্মদ ঘুরিকে পরাজিত করেন।
- তরাইনের ২য় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রি.): এক বছর পর ঘুরি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ফিরে এসে পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত ও বন্দী করেন। এর মাধ্যমে উত্তর ভারতে রাজপুত শাসনের অবসান ঘটে।
দিল্লি সালতানাত ও সুলতানি যুগের সূচনা:
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়ের পর ঘুরি ভারতের বিজিত অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়ে যান তাঁর অনুগত সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবক-এর ওপর। ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে ঘুরির মৃত্যুর পর কুতুবউদ্দিন আইবক নিজেকে দিল্লির স্বাধীন শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ‘দাস বংশ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সুলতানি যুগ সূচনা করেন।
দিল্লি সুলতানির ৫টি প্রধান রাজবংশ:
সুলতানি যুগে (১২০৬ – ১৫২৬ খ্রি.) দিল্লি সালতানাত পরিচালনা করেছিল প্রধানত পাঁচটি রাজবংশ। এই পাঁচ রাজবংশের বিস্তারিত ইতিহাস, শাসক ও তাদের মূল অবদান নিচে আলোচনা করা হলো:
দাস বংশ (১২০৬ – ১২৯০ খ্রি.):
দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠাতা রাজবংশ হলো দাস বংশ (বা মামলুক বংশ)। এই বংশের প্রথম দিকের শাসকরা একসময় দাস বা ক্রীতদাস ছিলেন বলে একে দাস বংশ বলা হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা: কুতুবউদ্দিন আইবক (১২০৬ – ১২১০ খ্রি.)। তিনি কুতুব মিনারের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- প্রধান শাসকগণ:
- শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ (১২১১ – ১২৩৬): তাঁকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। তিনি ‘টঙ্কা’ (রৌপ্য) ও ‘জিতল’ (তাম্র) মুদ্রা চালু করেন এবং প্রখ্যাত ইক্তা ব্যবস্থা ও ‘চল্লিশ চক্র’ (৪০ জন তুর্কি ক্রীতদাসের অভিজাত গোষ্ঠী) গঠন করেন।
- সুলতানা রাজিয়া (১২৩৬ – ১২৪০): ভারতের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র মুসলিম নারী শাসক।
- গিয়াসউদ্দিন বলবন (১২৬৬ – ১২৮৭): তিনি সুলতানের শক্তি পুনরুদ্ধারে কঠোর রাজতন্ত্র নীতি গ্রহণ করেন, চল্লিশ চক্র ধ্বংস করেন এবং ‘সিজদা’ ও ‘পাইবোস’ প্রথা চালু করেন।
- পতন: বলবনের মৃত্যুর পর এই বংশের দুর্বল শাসকদের সুযোগ নিয়ে ১২৯০ সালে জালালউদ্দিন খিলজি দাস বংশের শাসন অবসান ঘটান।
খিলজি বংশ (১২৯০ – ১৩২০ খ্রি.):
যদিও এই বংশ মাত্র ৩০ বছর স্থায়িত্ব পেয়েছিল, তবুও দিল্লি সালতানাতের সীমানা বৃদ্ধি ও সামরিক সংস্কারের দিক থেকে খিলজিদের সময়কাল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রতিষ্ঠাতা: জালালউদ্দিন খিলজি (১২৯০ – ১২৯৬ খ্রি.)।
- প্রধান শাসক:আলাউদ্দিন খিলজি (১২৯৬ – ১৩১৬ খ্রি.) — এই বংশের সবচেয়ে পরাক্রমশালী ও বিখ্যাত শাসক।
- মূল অবদান ও ঘটনাপ্রবাহ:
- দাক্ষিণাত্য বিজয়: আলাউদ্দিন খিলজিই প্রথম দিল্লির সুলতান যিনি প্রথম দক্ষিণ ভারতে অভিযান চালান এবং বিশাল অঞ্চল জয় করেন।
- বাজার দর নিয়ন্ত্রণ নীতি: তিনি সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নির্ধারণ করে দেন, যা মধ্যযুগীয় ভারতের অন্যতম সফল অর্থনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হয়।
- সামরিক সংস্কার: সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি দূর করতে তিনি সৈন্যদের ‘হুলিয়া’ (শারীরিক বিবরণ) এবং ঘোড়া চিহ্নিত করার ‘দাগ’ প্রথা চালু করেন।
- পতন: আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর সেনাপতি মালিক কাফুর ও পরবর্তী দুর্বল শাসকদের কোন্দলে ১৩২০ সালে খিলজি বংশের পতন ঘটে।
তুঘলক বংশ (১৩২০ – ১৪১৪ খ্রি.):
তুঘলক বংশ ছিল দিল্লি সালতানাতের সবচেয়ে দীর্ঘকাল (প্রায় ৯৪ বছর) শাসনকারী রাজবংশ। এই আমলে সালতানাতের সীমানা সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়, আবার চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলাও দেখা দেয়।
- প্রতিষ্ঠাতা: গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (১৩২০ – ১৩২৫ খ্রি.)।
- প্রধান শাসকগণ:
- মুহাম্মদ বিন তুঘলক (১৩২৫ – ১৩৫১): তিনি ছিলেন একজন মহাজ্ঞানী কিন্তু বাস্তবজ্ঞানহীন শাসক। তাঁর বিখ্যাত ৩টি সিদ্ধান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দেয়—১. দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে (দেবগিরি) রাজধানী স্থানান্তর,২. তাম্র ও পিতলের প্রতিকী মুদ্রা (Token Currency) প্রচলন,৩. দোয়াব অঞ্চলে অতিরিক্ত কর আরোপ।
- ফিরোজ শাহ তুঘলক (১৩৫১ – ১৩৮৮): তিনি কৃষি ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য বিখ্যাত। তিনি বহু সেচ খাল নির্মাণ করেন, ‘দেওয়ান-ই-খয়রাত’ (দান বিভাগ) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ফিরোজাবাদ ও জৌনপুরের মতো নগর নির্মাণ করেন।
- পতন: ১৩৯৮ সালে মধ্য এশিয়ার বিজয়ী তৈমুর লং দিল্লি আক্রমণ ও ধ্বংসলীলা চালালে তুঘলক বংশের অস্তিত্ব কার্যত শেষ হয়ে যায়।
সৈয়দ বংশ (১৪১৪ – ১৪৫১ খ্রি.):
তৈমুর লং-এর ভারত আক্রমণের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অরাজকতার সুযোগ নিয়ে সৈয়দ বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল দিল্লি সালতানাতের তুলনামূলক দুর্বল ও সবচেয়ে ছোট ভৌগোলিক সীমানার শাসনকাল।
- প্রতিষ্ঠাতা: খিজির খান (১৪১৪ – ১৪২১ খ্রি.)। তিনি নিজেকে মহানবী (সা.)-এর বংশধর বলে দাবি করতেন এবং তৈমুর লং-এর প্রতিনিধি হিসেবে শাসনকাজ শুরু করেন।
- প্রধান শাসকগণ: খিজির খান, মুবারক শাহ, মুহাম্মদ শাহ এবং আলাউদ্দিন আলম শাহ।
- বিশেষত্ব: এই বংশের শাসকরা ক্রমাগত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আশেপাশের আঞ্চলিক রাজ্যগুলোর আক্রমণের সম্মুখীন হন।
- পতন: ১৪৫১ সালে এই বংশের শেষ শাসক আলাউদ্দিন আলম শাহ স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করে বাহলুল লোদীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
লোদী বংশ (১৪৫১ – ১৫২৬ খ্রি.):
লোদী বংশ হলো দিল্লি সালতানাতের শেষ রাজবংশ এবং ভারতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম আফগান রাজবংশ (পূর্ববর্তী রাজবংশগুলো মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত ছিল)।
- প্রতিষ্ঠাতা: বাহলুল লোদী (১৪৫১ – ১৪৮৯ খ্রি.)।
- প্রধান শাসকগণ:
- সিকান্দর লোদী (১৪৮৯ – ১৫১৭): তিনি এই বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। তিনি ১৫০৪ সালে আগ্রা শহর প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটিকে তাঁর রাজধানী বানান। তিনি জমি পরিমাপের জন্য ‘গজ-ই-সিকান্দরী’ প্রথা চালু করেন।
- ইব্রাহিম লোদী (১৫১৭ – ১৫২৬): তিনি ছিলেন অহংকারী ও স্বৈরাচারী প্রকৃতির শাসক, যার কারণে তাঁর নিজের আফগান আমিররা তাঁর বিরুদ্ধে চলে যান।
- পতন ও সুলতানি যুগের অবসান: ইব্রাহিম লোদীর চাচা দৌলত খান লোদী ও অন্যান্য আমিরদের আমন্ত্রণে কাবুলের শাসক বাভর ভারত আক্রমণ করেন। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের তোপখানার সামনে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।
এর মাধ্যমেই পতন ঘটে লোদী বংশের, অবসান হয় দীর্ঘ ৩২০ বছরের সুলতানি যুগ-এর এবং সূচনা হয় বিখ্যাত মুঘল সাম্রাজ্য-এর।
আরো পড়ুন: মগধ সাম্রাজ্য: Magadha Empire.
সুলতানি যুগ-এর ১১টি চমৎকার ঐতিহাসিক দিক:
মধ্যযুগীয় ভারতে দিল্লি সালতানাতের প্রভাব বুঝতে নিচে উল্লিখিত ১১টি মূল দিক আলোচনা করা প্রয়োজন:
কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও ইক্তা ব্যবস্থা:
দিল্লির সুলতানরা একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেন। রাজ্য পরিচালনা ও কর আদায়ের সুবিধার্থে জমিগুলোকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে কর্মকর্তাদের দেওয়া হতো, যা ‘ইক্তা ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।
বাজার দর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা:
আলাউদ্দিন খিলজি সামরিক খরচ কমাতে ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চাল, ডাল, কাপড়সহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নির্দিষ্ট করে দেন। এটি মধ্যযুগীয় ভারতের অন্যতম সফল অর্থনৈতিক সংস্কার।
বৈপ্লবিক কৃষি ও সেচ নীতি:
ফিরোজ শাহ তুঘলক বহু খাল, জলাশয় ও সেচ ব্যবস্থা নির্মাণ করেন। কৃষকদের ওপর থেকে অতিরিক্ত কর মওকুফ করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
প্রথম নারী শাসক: সুলতানা রাজিয়া:
ভারতের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র মুসলিম নারী শাসক হিসেবে রাজিয়া সুলতানা ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন, যা তৎকালীন সমাজের জন্য এক বৈপ্লবিক ঘটনা ছিল।
মুদ্রা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ:
সুলতান ইলতুৎমিশ ‘টঙ্কা’ (রৌপ্য মুদ্রা) এবং ‘জিতল’ (তাম্র মুদ্রা) চালু করেন, যা পরবর্তীতে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে।
ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্য শিল্প:
এই যুগে পারস্য ও ভারতীয় স্থাপত্যের মিলনে এক নতুন শৈলীর জন্ম হয়। কুতুব মিনার, আলাই দরওয়াজা এবং তুঘলকাবাদ দুর্গ এর উজ্জ্বল নিদর্শন।
ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ:
ফারসি ভাষা রাজভাষা হিসেবে স্বীকৃত পেলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে অপভ্রংশ, হিন্দভি এবং প্রাথমিক উদু ভাষার বিকাশ ঘটে। আমির খসরুর মতো বিখ্যাত কবিরা এই আমলেই তাঁদের সাহিত্য সৃষ্টি করেন।
ভক্তিবাদ ও সুফি আন্দোলনের প্রভার:
সুফি সাধক নিজামুদ্দিন আউলিয়া ও মঈনুদ্দিন চিশতী এবং ভক্তি আন্দোলনের সাধক কবীর, গুরু নানক ও চৈতন্যদেব সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শহর প্রতিষ্ঠা:
আগ্রা, ফিরোজাবাদ, জৌনপুরের মতো নতুন নতুন শহর গড়ে ওঠে। দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।
সামরিক সংস্কার ও দাগ-হুলিয়া প্রথা:
আলাউদ্দিন খিলজি সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি বন্ধ করতে ঘোড়া চিহ্নিত করার ‘দাগ’ এবং সৈন্যদের শারীরিক বিবরণ লিখে রাখার ‘হুলিয়া’ প্রথা চালু করেন।
সুলতানি যুগের পতন ও রাজনৈতিক পুনর্গঠন:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের হাতে ইব্রাহিম লোদীর পরাজয়ের মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘটে এবং মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
সুলতানি যুগের স্থাপত্য:
সুলতানি যুগে ভারতের স্থাপত্যবিদ্যায় এক অভূতপূর্ব রূপান্তর ঘটে। পারস্য ও মধ্য এশিয়ার ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীর মেলবন্ধনে জন্ম নেয় ‘ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্য’। এই স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল গম্বুজ (Dome), খিলান (Arch), মিনার, খোদাই করা ক্যালিগ্রাফি এবং জ্যামিতিক নকশার ব্যবহার।
- দাস বংশ: কুতুবউদ্দিন আইবক দিল্লির কুতুব মিনার-এর নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং ভারতের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ ‘কুওয়াত-উল-ইসলাম’ ও আজমিরের ‘আড়াই দিন কা ঝোপড়া’ নির্মাণ করেন। ইলতুৎমিশ কুতুব মিনারের কাজ সমাপ্ত করেন।
- খিলজি বংশ: আলাউদ্দিন খিলজি কুতুব মিনার প্রাঙ্গণে নির্মাণ করেন বিখ্যাত প্রবেশদ্বার ‘আলাই দরওয়াজা’। এছাড়া তিনি ‘হাজির সিতুন’ (হাজার স্তম্ভের প্রাসাদ) ও ‘জমাআত খানা মসজিদ’ তৈরি করেন। খিলজি স্থাপত্যে লাল বেলেপাথরের চমৎকার ব্যবহার দেখা যায়।
- তুঘলক বংশ: তুঘলক স্থাপত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বিশালতা ও মজবুত সামরিক কাঠামো। গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ‘তুঘলকাবাদ দুর্গ’ গড়ে তোলেন। ফিরোজ শাহ তুঘলক নির্মাণ করেন ফিরোজাবাদ, হিসার ও ফিরোজ শাহ কোটলা দুর্গ।
- লোদী বংশ: লোদী শাসনামলে অক্টোবাস বা অষ্টভুজাকৃতির সমাধিসৌধ (Octagonal Tombs) এবং ডাবল-ডোম (Double Dome) স্থাপত্যের প্রচলন ঘটে। দিল্লির ‘লোদী গার্ডেন্স’ ও সিকান্দর লোদীর সমাধিসৌধ এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
সুলতানি যুগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও লেখক:
| গ্রন্থের নাম | লেখকের নাম | বিষয়বস্তু / বিবরণ |
| তারিখ-ই-ফিরোজশাহী | জিয়াউদ্দিন বারানী | গিয়াসউদ্দিন বলবন থেকে ফিরোজ শাহ তুঘলকের কাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ইতিহাস। |
| তবকাত-ই-নাসিরী | মিনহাজ-উস-সিরাজ | মোহাম্মদ ঘুরির অভিযান ও দাস বংশের প্রাথমিক শাসনের বর্ণনা। |
| কিরান-উস-সাদাইন | আমির খসরু | বুগরা খান ও তাঁর পুত্র কায়কোবাদের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ সম্পর্কিত কাব্য। |
| খাজাইন-উল-ফুতুহ | আমির খসরু | আলাউদ্দিন খিলজির দাক্ষিণাত্য বিজয় ও শাসনব্যবস্থার বিবরণ। |
| তুঘলকনামা | আমির খসরু | তুঘলক বংশের শাসন ও গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের ক্ষমতার উত্থান। |
| কিতাব-উল-রহলা | ইবন বতুতা | মরোক্কোর পর্যটক ইবন বতুতার ভ্রমণকাহিনী ও মুহাম্মদ বিন তুঘলকের আমলের বর্ণনা। |
| তারিখ-ই-মুবারকশাহী | ইয়াহিয়া বিন আহমেদ সরহিন্দি | সৈয়দ বংশের ইতিহাসের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য গ্রন্থ। |
| শাহনামা | ফেরদৌসী | পারস্যের রাজাদের মহাকাব্যিক বিবরণ (যদিও এটি গজনভি আমলের, সুলতানি যুগের প্রারম্ভে ব্যাপক পঠিত ছিল)। |
| তারিখ-ই-ইয়ামিনী | আল-উতবি | সুলতান মাহমুদ ও গজনভি রাজবংশের প্রথম দিকের ইতিহাস। |
| চাচানামা | কাজী ইসমাইল (ফারসি অনুবাদ: আলী কুফি) | সিন্ধু দেশে আরব বিজয়ের ঐতিহাসিক বিবরণ। |
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, সুলতানি যুগ কেবল রাজনৈতিক জয় কিংবা রাজবংশ পরিবর্তনের ঘটনাপঞ্জি নয়, বরং এটি ছিল সমন্বিত এক ভারতীয় সংস্কৃতি বা ‘গঙ্গা-যমুনা তেহজীব’ গড়ে ওঠার সূচনালগ্ন। আলাউদ্দিন খিলজির সুসংগঠিত অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ইলতুৎমিশের সুদৃঢ় প্রশাসনিক ভিত্তি কিংবা ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনকল্যাণমুখী সংস্কারসমূহ প্রমাণ করে যে, এই যুগের শাসকরা কেবল সাম্রাজ্য বিস্তারে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং এক টেকসই রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগী ছিলেন।
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর পতনের মধ্য দিয়ে এই শাসনকালের সমাপ্তি ঘটলেও, এর প্রভাব ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মুছে যায়নি। সুলতানি আমলে প্রবর্তিত প্রশাসনিক নীতি, রাজস্ব ব্যবস্থা, স্থাপত্যরীতি এবং ভাষাগত বিকাশ পরবর্তী মুঘল শাসকরা যেমন সমৃদ্ধ করেছিলেন, তেমনি তা বর্তমান ভারতের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যেও এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে।
বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার এই ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা সুলতানি যুগকে মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসের এক অন্যতম স্বর্ণোজ্জ্বল ও প্রভাব বিস্তারকারী অধ্যায় হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে।
সুলতানি যুগ সম্পর্কিত শীর্ষ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (Top 10 FAQs):
১. প্রশ্ন: দিল্লি সালতানাত বা সুলতানি যুগের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তর: ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবক দাস বংশ (মামলুক বংশ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
২. প্রশ্ন: সুলতানি যুগে কয়টি রাজবংশ শাসন করেছিল এবং তাদের নাম কী?
উত্তর: মোট ৫টি রাজবংশ ৩২০ বছর (১২০৬ – ১৫২৬ খ্রি.) শাসন করেছিল:
- দাস বংশ (১২০৬ – ১২৯০)
- খিলজি বংশ (১২৯০ – ১৩২০)
- তুঘলক বংশ (১৩২০ – ১৪১৪)
- সৈয়দ বংশ (১৪১৪ – ১৪৫১)
- লোদী বংশ (১৪৫১ – ১৫২৬)
৩. প্রশ্ন: কুতুবউদ্দিন আইবককে ‘লাখ-বখশ’ বলা হতো কেন?
উত্তর: অত্যন্ত দানশীল প্রকৃতির হওয়ার কারণে এবং লক্ষ লক্ষ মুদ্রা দান করার অভ্যাসের জন্য কুতুবউদ্দিন আইবককে ‘লাখ-বখশ’ (লক্ষে দাতা) বলা হতো।
৪. প্রশ্ন: মধ্যযুগীয় ভারতের প্রথম এবং একমাত্র মুসলিম নারী শাসক কে ছিলেন?
উত্তর: ইলতুৎমিশের কন্যা সুলতানা রাজিয়া (১২৩৬ – ১২৪০ খ্রি.) ছিলেন ভারতের প্রথম এবং একমাত্র নারী সুলতান।
৫. প্রশ্ন: ‘ইক্তা প্রথা’ এবং ‘চল্লিশ চক্র’ কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ রাজস্ব আদায় ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ইক্তা প্রথা’ এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার জন্য ‘চল্লিশ চক্র’ (তুর্কান-ই-চিহালগানি) প্রবর্তন করেন।(পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দিন বলবন এই চল্লিশ চক্র ধ্বংস করেন)।
৬. প্রশ্ন: সামরিক বাহিনীতে ‘দাগ’ ও ‘হুলিয়া’ প্রথা এবং বাজার দর নিয়ন্ত্রণ নীতি কে চালু করেন?
উত্তর: খিলজি বংশের পরাক্রমশালী সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি দুর্নীতিরোধে ঘোড়া চিহ্নিতকরণের ‘দাগ’ ও সৈন্যদের পরিচয় নিবন্ধনের ‘হুলিয়া’ প্রথা এবং অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ‘বাজার দর নিয়ন্ত্রণ নীতি’ চালু করেন।
৭. প্রশ্ন: কাকে মধ্যযুগীয় ভারতের ‘পাগলা রাজা’ বলা হয় এবং কেন?
উত্তর: মুহাম্মদ বিন তুঘলক-কে তাঁর কিছু দূরদর্শী কিন্তু অবাস্তব সিদ্ধান্তের জন্য ‘পাগলা রাজা’ বা ‘স্ববিরোধী রাজা’ বলা হয়। তাঁর প্রধান ভুল সিদ্ধান্তগুলো ছিল:
- দিল্লি থেকে দেবগিরিতে (দৌলতাবাদ) রাজধানী স্থানান্তর।
- সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ‘প্রতীকি তাম্র মুদ্রা’ (Token Currency) প্রচলন।
- দোয়াব অঞ্চলে খরা সত্ত্বেও অতিরিক্ত কর আরোপ।
৮. প্রশ্ন: ‘সুলতানি যুগের আকবর’ কাকে বলা হয়?
উত্তর: তুঘলক বংশের সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক-কে ঐতিহাসিক এলিয়ট ‘সুলতানি যুগের আকবর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।তিনি তাঁর প্রজাকल्याणমুখী কাজ, যেমন: অসংখ্য সেচ খাল খনন, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও দান বিভাগের জন্য পরিচিত ছিলেন।
৯. প্রশ্ন: বিখ্যাত পর্যটক ইবন বতুতা কার শাসনকালে ভারতে এসেছিলেন এবং তাঁর লিখিত গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর পর্যটক ইবন বতুতা সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক-এর শাসনকালে ভারতে আসেন। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণবৃত্তান্ত গ্রন্থটির নাম ‘কিতাব-উল-রহলা’।
১০. প্রশ্ন: সুলতানি যুগের অবসান ঘটে কীভাবে?
উত্তর: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল বিখ্যাত পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের তোপখানার আক্রমণে শেষ লোদী সুলতান ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩২০ বছরের সুলতানি যুগের পতন ঘটে এবং ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।