ভারতের কৃষি: ফসল ও উৎপাদন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য Agriculture in India: Comprehensive Information on Crops and Production.

ভারতের কৃষি: ফসল ও উৎপাদন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য Agriculture in India: Comprehensive Information on Crops and Production.

Table of Contents

ভূমিকা (Introduction):

ভারতের কৃষি ব্যবস্থা কেবল একটি জীবিকা নয়, এটি এদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনরেখা এবং জাতীয় অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, জলবায়ুর ভিন্নতা এবং উর্বর মৃত্তিকার কারণে ভারতে বিভিন্ন ধরনের শস্য উৎপাদিত হয়।

ভারতের কৃষি মূলত ঋতুভেদে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত— খারিফ, রবি এবং জায়েদ শস্য। ধান ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য, যার উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থান অধিকার করে। এছাড়াও গম, তুলা, আখ এবং ডাল উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম সারিতে রয়েছে। ভারতের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কৃষিকাজের ভূমিকা অপরিসীম।

১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া সবুজ বিপ্লব ভারতের কৃষি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে। উচ্চফলনশীল বীজ (HYV) এবং আধুনিক জলসেচ ব্যবস্থার ফলে খাদ্যশস্যের উৎপাদনে ভারত স্বনির্ভর হয়ে ওঠে। বর্তমানে সরকার ‘চিরহরিৎ বিপ্লব’ (Evergreen Revolution) এবং জৈব কৃষির (Organic Farming) ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (WBCS, PSC) প্রস্তুতির জন্য ভারতের বিভিন্ন কৃষি অঞ্চল এবং উৎপাদনকারী রাজ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য রাখা একান্ত প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ভারতের কৃষি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হচ্ছে। কিসান ক্রেডিট কার্ড বা পিএম-কিষাণ প্রকল্পের মতো সরকারি উদ্যোগগুলো কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষাকে আরও মজবুত করেছে। উন্নত পরিকাঠামো এবং সঠিক বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে ভারতীয় কৃষি বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী জায়গা করে নেবে।

ভারতের কৃষি

ভারতের কৃষি ব্যবহারের প্রকৃতি অনুযায়ী ফসলের শ্রেণিবিভাগ:

ফসলের ধরনউদাহরণ
খাদ্যশস্য (Food Grains)ধান, গম, ভুট্টা, মিলেট, ডাল, তৈলবীজ।
বাণিজ্যিক ফসল (Commercial Crops)তুলা, পাট, আখ, তামাক, তৈলবীজ।
বাগিচা ফসল (Plantation Crops)চা, কফি, নারকেল, রবার।
উদ্যানপালন (Horticulture)বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাকসবজি।
পানীয় ফসল (Drink Crops)চা ও কফি।
তন্তুজ ফসল (Fibre Crops)পাট ও তুলা।
অর্থকরী ফসল (Cash Crops)চা, কফি, রবার।

বপনের সময় অনুযায়ী ফসলের শ্রেণিবিভাগ:

  • খারিফ শস্য: মে-জুলাই মাসে বপন এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে কাটা হয়। (উদা: ধান, জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা, তুলা, আখ)
  • রবি শস্য: অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে বপন এবং মার্চ-এপ্রিল মাসে কাটা হয়। (উদা: গম, যব, সরষে, ছোলা)
  • জায়েদ শস্য (Zaid Crops): খারিফ ও রবি শস্যের মধ্যবর্তী সময়ে চাষ হয় (ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল)। (উদা: তরমুজ, শসা, শাকসবজি)

প্রধান ফসলের উৎপাদন ও শীর্ষস্থানীয় রাজ্য (২০১৯-২০ তথ্য অনুসারে):

ফসলপ্রথম স্থানদ্বিতীয় স্থানতৃতীয় স্থানবিশ্বে ভারতের স্থান
ধানপশ্চিমবঙ্গউত্তরপ্রদেশপাঞ্জাব২য় (চীন ১ম)
গমউত্তরপ্রদেশমধ্যপ্রদেশপাঞ্জাব২য় (চীন ১ম)
ভুট্টাকর্ণাটকমধ্যপ্রদেশবিহার৪র্থ (আমেরিকা ১ম)
আখউত্তরপ্রদেশমহারাষ্ট্রকর্ণাটক২য় (ব্রাজিল ১ম)
তুলাগুজরাটমহারাষ্ট্রতেলেঙ্গানা২য় (চীন ১ম)
চাঅসমপশ্চিমবঙ্গতামিলনাড়ু২য় (চীন ১ম)
কফিকর্ণাটককেরলতামিলনাড়ু৭ম (ব্রাজিল ১ম)
ডালমধ্যপ্রদেশরাজস্থানউত্তরপ্রদেশ১ম

শস্য চাষের ভৌগোলিক পরিবেশ:

শস্যমাটির ধরনবৃষ্টিপাত (সেমি)তাপমাত্রা (°C)
ধানউর্বর পলিমাটি১৫০ – ২০০২০° – ৩০°
গমদোআঁশ মাটি৫০ – ৭০১০° – ২০°
তুলারেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা৫০ – ১০০২০° – ৩৫°
চালৌহ মিশ্রিত দোআঁশ মাটি১৫০ – ২৫০২১° – ৩০°
কফিলাল দোআঁশ মাটি১৫০ – ২৫০১৫° – ২৮°

ভারতের কৃষি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র:

গবেষণা কেন্দ্রঅবস্থান
কেন্দ্রীয় ধান গবেষণা কেন্দ্রকটক, ওড়িশা
কেন্দ্রীয় গম গবেষণা কেন্দ্রপুসা, দিল্লি
কেন্দ্রীয় আখ গবেষণা কেন্দ্রলখনউ, উত্তরপ্রদেশ
কেন্দ্রীয় চা গবেষণা কেন্দ্রজোরহাট, অসম
কেন্দ্রীয় তুলা গবেষণা কেন্দ্রনাগপুর, মহারাষ্ট্র
কেন্দ্রীয় কফি গবেষণা কেন্দ্রচিকমাগালুর, কর্ণাটক
কেন্দ্রীয় আলু গবেষণা কেন্দ্রশিমলা, হিমাচল প্রদেশ

ভারতের কৃষি কাজের বিভিন্ন ধরন ও তাদের বৈশিষ্ট্য (Types of Farming):

কৃষিকাজের ধরনমূল বৈশিষ্ট্য (Key Features)অঞ্চল/উদাহরণ
জীবনধারণ ভিত্তিক কৃষি (Subsistence Farming)কৃষক ও তার পরিবারের খোরাকির জন্য চাষ করা হয়। উদ্বৃত্ত ফসল খুব কম থাকে।ভারতের অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকা।
নিবিড় কৃষি (Intensive Farming)অল্প জমিতে অত্যাধিক শ্রম ও পুঁজি ব্যবহার করে বছরে একাধিকবার ফসল ফলানো।পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার।
বিস্তৃত কৃষি (Extensive Farming)বিশাল এলাকা জুড়ে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। জনঘনত্ব যেখানে কম সেখানে এটি দেখা যায়।আমেরিকা, কানাডা, রাশিয়ার স্তেপ অঞ্চল।
বাণিজ্যিক কৃষি (Commercial Farming)মূলত বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এবং লাভের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চাষ।ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা (গম চাষ)।
বাগিচা কৃষি (Plantation Farming)বিশাল এলাকা জুড়ে কেবল একটি নির্দিষ্ট অর্থকরী ফসলের চাষ করা হয়।চা (অসম), কফি (কর্ণাটক), রবার (কেরল)।
মিশ্র কৃষি (Mixed Farming)একই খামারে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি পশুপালন (দুগ্ধ বা মাংসের জন্য) করা হয়।উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ, ভারতের কিছু অংশ।
স্থানান্তর কৃষি (Shifting Cultivation)বন পুড়িয়ে জমি পরিষ্কার করে কয়েক বছর চাষের পর আবার নতুন স্থানে চলে যাওয়া।উত্তর-পূর্ব ভারত (অসম, মেঘালয় – একে ‘ঝুম’ বলে)।
শুষ্ক কৃষি (Dry Farming)যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৫০-৭৫ সেমির কম, সেখানে জলসেচ ছাড়াই বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ।রাজস্থান, গুজরাট ও দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।
আর্দ্র কৃষি (Wet Farming)প্রচুর বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে (২০০ সেমির বেশি) মূলত ধানের চাষ করা হয়।পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ।
ধাপ চাষ (Terrace Farming)পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে মাটি ক্ষয় রোধ করে চাষাবাদ।দার্জিলিং, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড।

পশ্চিমবঙ্গের কৃষি সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য (West Bengal Special):

  • ধানের ভাণ্ডার: পূর্ব বর্ধমান জেলাকে ‘পশ্চিমবঙ্গের ধানের গোলা’ বলা হয়।
  • পাট উৎপাদন: ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে পাট উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে। নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনা প্রধান জেলা।
  • চা শিল্প: ১৮৪০-এর দশকে দার্জিলিং-এ প্রথম চা চাষ শুরু হয়। দার্জিলিং চা ভারতের প্রথম পণ্য হিসেবে ২০০৪ সালে GI Tag পায়।
  • ফল উৎপাদন: আম উৎপাদনে মালদা জেলা এবং আনারস উৎপাদনে উত্তর দিনাজপুর (ইসলামপুর) বিখ্যাত।
  • কমলালেবু: দার্জিলিং-এর মিরিক ও কালিম্পং-এর গরুবাথান কমলালেবু চাষের জন্য পরিচিত।

কৃষিকাজের বিভিন্ন পদ্ধতি (Farming Terminology):

  • পমোলজি (Pomology): ফল চাষ সংক্রান্ত বিজ্ঞান।
  • ওলিরিকালচার (Olericulture): শাকসবজি চাষ।
  • ফ্লোরিকালচার (Floriculture): ফুল চাষ।
  • পিসিকালচার (Pisciculture): মাছ চাষ।
  • সেরিকালচার (Sericulture): রেশম চাষ।
  • ভিটিকালচার (Viticulture): আঙুর চাষ।
  • এপিকালচার (Apiculture): মৌমাছি পালন।

স্থানান্তর কৃষি (Shifting Cultivation) – আঞ্চলিক নাম:

  • ঝুম (Jhum): উত্তর-পূর্ব ভারত (অসম, মেঘালয়)।
  • পোডু (Podu): অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা।
  • বেওয়ার/দহিয়া: মধ্যপ্রদেশ।
  • পনম (Ponam): কেরালা।
  • কুমারি (Kumari): পশ্চিমঘাট পর্বত অঞ্চল।

কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশ (Global Rank):

পণ্য১ম স্থানভারতের স্থান
দুধভারত১ম
ডালভারত১ম
চাচীন২য়
ধানচীন২য়
গমচীন২য়
আখব্রাজিল২য়
কফিব্রাজিল৭ম

জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকের শ্রেণিবিভাগ:

কৃষকের ধরনজমির পরিমাণ (Hectare)জমির পরিমাণ (একর – প্রায়)বৈশিষ্ট্য
প্রান্তিক কৃষক (Marginal Farmer)১ হেক্টরের কম২.৫ একরের কমভারতের অধিকাংশ কৃষক (প্রায় ৬৮%) এই শ্রেণির অন্তর্গত। এরা মূলত নিজেদের খোরাকির জন্য চাষ করেন।
ক্ষুদ্র কৃষক (Small Farmer)১ – ২ হেক্টর২.৫ – ৫ একরএরাও জীবনধারণ ভিত্তিক কৃষির ওপর নির্ভরশীল, তবে সামান্য উদ্বৃত্ত ফসল বাজারে বিক্রি করেন।
অর্ধ-মাঝারি কৃষক (Semi-Medium Farmer)২ – ৪ হেক্টর৫ – ১০ একরএরা আধুনিক সেচ ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু করেন।
মাঝারি কৃষক (Medium Farmer)৪ – ১০ হেক্টর১০ – ২৫ একরএরা বাণিজ্যিকভাবে চাষবাস করেন এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি থাকে।
বড় কৃষক (Large Farmer)১০ হেক্টরের বেশি২৫ একরের বেশিবিশাল জোত বা জমির মালিক। সম্পূর্ণ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং আধুনিক কৃষি ব্যবসায়িক মডেলে চাষ করেন।

চাষের প্রকৃতি অনুযায়ী কৃষকের অন্যান্য ধরন:

জমির মালিকানা ছাড়াও চাষের ধরন অনুযায়ী কৃষকদের আরও কিছু ভাগে ভাগ করা হয়:

  • ভাগচাষি (Sharecroppers): যারা অন্যের জমিতে চাষ করেন এবং উৎপাদিত ফসলের একটি নির্দিষ্ট অংশ জমির মালিককে দেন। পশ্চিমবঙ্গে এদের ‘বর্গাদার’ বলা হয়।
  • ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক (Landless Agricultural Labourers): যাদের নিজস্ব কোনো জমি নেই, অন্যের জমিতে দৈনিক মজুরির বিনিময়ে শ্রম দেন।
  • চুক্তিভিত্তিক চাষি (Contract Farmers): কোনো কোম্পানি বা সংস্থার সাথে আগে থেকে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট ফসল (যেমন— চিপসের জন্য আলু) চাষ করেন।
  • অনুপস্থিত জমিদার (Absentee Landlord): যারা জমির মালিক কিন্তু নিজে চাষ করেন না বা গ্রামে থাকেন না, অন্যকে দিয়ে চাষ করান।

ভারতের কৃষি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

১. ভারতের মোট কৃষকের প্রায় ৮৫% হলো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক (Small and Marginal Farmers)।

২. ভারতের কৃষি শুমারি (Agriculture Census) প্রতি ৫ বছর অন্তর পরিচালিত হয়।

৩. কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) প্রকল্পে এই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ভারতের কৃষি উৎপাদন ও রাজ্যভিত্তিক অবস্থান:

ফসলের নামপ্রথম স্থান (রাজ্য)দ্বিতীয় স্থান (রাজ্য)তৃতীয় স্থান (রাজ্য)বিশ্বের দরবারে ভারতের স্থান
ধান (Rice)পশ্চিমবঙ্গউত্তরপ্রদেশপাঞ্জাব২য় (চীন ১ম)
গম (Wheat)উত্তরপ্রদেশমধ্যপ্রদেশপাঞ্জাব২য় (চীন ১ম)
ভুট্টা (Maize)কর্ণাটকমধ্যপ্রদেশমহারাষ্ট্র৪র্থ (আমেরিকা ১ম)
আখ (Sugarcane)উত্তরপ্রদেশমহারাষ্ট্রকর্ণাটক২য় (ব্রাজিল ১ম)
তুলা (Cotton)গুজরাটমহারাষ্ট্রতেলেঙ্গানা২য় (চীন ১ম)
পাট (Jute)পশ্চিমবঙ্গবিহারঅসম১ম
চা (Tea)অসমপশ্চিমবঙ্গতামিলনাড়ু২য় (চীন ১ম)
কফি (Coffee)কর্ণাটককেরালাতামিলনাড়ু৭ম (ব্রাজিল ১ম)
মোট ডাল (Pulses)মধ্যপ্রদেশরাজস্থানমহারাষ্ট্র১ম
মোট তৈলবীজরাজস্থানমধ্যপ্রদেশগুজরাট৩য় (চীন, আমেরিকা ১ম ও ২য়)
সর্ষে (Mustard)রাজস্থানমধ্যপ্রদেশহরিয়ানা৩য় (কানাডা, চীন ১ম ও ২য়)
আলু (Potato)উত্তরপ্রদেশপশ্চিমবঙ্গবিহার২য় (চীন ১ম)
পেঁয়াজ (Onion)মহারাষ্ট্রমধ্যপ্রদেশকর্ণাটক২য় (চীন ১ম)
দুধ (Milk)রাজস্থানউত্তরপ্রদেশমধ্যপ্রদেশ১ম

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Quick Notes):

  • পশ্চিমবঙ্গ: ধান এবং পাট উৎপাদনে ভারতে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে।
  • উত্তরপ্রদেশ: গম, আখ এবং আলু উৎপাদনে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে।
  • রাজস্থান: বর্তমানে মোট তৈলবীজ, সর্ষে এবং দুধ উৎপাদনে ভারতের মধ্যে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে।
  • কর্ণাটক: কফি এবং ভুট্টা উৎপাদনে একাধিপত্য বজায় রেখেছে।

ভারতের কৃষি বিপ্লব, ক্ষেত্র ও তাদের জনক:

বিপ্লবের নামউৎপাদন/ক্ষেত্র (Field)জনক (Father of the Revolution)
সবুজ বিপ্লবখাদ্যশস্য (বিশেষত গম ও ধান)এম. এস. স্বামীনাথন (ভারত) / নরম্যান বোরলাগ (বিশ্ব)
শ্বেত বিপ্লবদুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যড. ভার্গিস কুরিয়েন (Father of White Revolution)
নীল বিপ্লবমাছ ও সামুদ্রিক পণ্যড. হীরালাল চৌধুরী ও ড. অরুণ কৃষ্ণান
হলুদ বিপ্লবতৈলবীজ (সরষে ও সূর্যমুখী)স্যাম পিত্রোদা (Sam Pitroda)
গোলাপী বিপ্লবপেঁয়াজ, ওষুধ ও চিংড়ি মাছদুর্গেশ প্যাটেল (Durgesh Patel)
লাল বিপ্লবমাংস ও টমেটো উৎপাদনবিশাল তিওয়ারি (Vishal Tewari)
সোনালী বিপ্লবফল, মধু ও উদ্যানপালননিরপাখ তুতাজ (Nirpakh Tutej)
রজত বিপ্লবডিম ও পোল্ট্রি উৎপাদনইন্দিরা গান্ধী (এনার উদ্যোগে প্রসার ঘটে)
বাদামী বিপ্লবচামড়া ও কোকো উৎপাদনহীরালাল চৌধুরী
চিরহরিৎ বিপ্লবকৃষির সামগ্রিক টেকসই উন্নয়নএম. এস. স্বামীনাথন (২০০০ সালের দিকে এই ধারণা দেন)

গুরুত্বপূর্ণ কিছু অতিরিক্ত তথ্য:

  • সবুজ বিপ্লব (Green Revolution): ১৯৬৬-৬৭ সালে এটি শুরু হয়। এর ফলে গমের উৎপাদন সবথেকে বেশি বৃদ্ধি পায়। মেক্সিকো থেকে আনা উচ্চফলনশীল বীজ (HYV) এতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
  • অপারেশন ফ্লাড (Operation Flood): ১৯৭০ সালে শ্বেত বিপ্লবকে গতিশীল করতে এই ন্যাশনাল প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল। এর ফলেই ‘Amul’ ব্র্যান্ডের জয়যাত্রা শুরু হয়।
  • ইন্দ্রধনু বিপ্লব (Rainbow Revolution): ২০০০ সালে ঘোষিত জাতীয় কৃষি নীতিতে এটি প্রথম ব্যবহার করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল সবুজ, শ্বেত, নীল, হলুদ সব ধরনের বিপ্লবকে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
  • গোল বিপ্লব (Round Revolution): আলুর উচ্চফলনশীল জাত এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে এটি যুক্ত। মনে রাখবেন, এর নির্দিষ্ট কোনো একজন ‘জনক’ হিসেবে পরিচিত নন, এটি সেন্ট্রাল পটেটো রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (CPRI) প্রচেষ্টায় সফল হয়।

স্থানান্তর কৃষির বিভিন্ন নাম:

  • ঝুম (Jhum): উত্তর-পূর্ব ভারত।
  • পোডু (Podu): অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা।
  • পনম (Ponam): কেরালা।
  • কুমারি (Kumari): পশ্চিমঘাট পর্বত।
  • মাসোল (Masole): কঙ্গো (আফ্রিকা)।
  • লাদাং (Ladang): মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।
  • মিলপা (Milpa): মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকো।

উপসংহার (Conclusion):

পরিশেষে বলা যায়, ভারতীয় অর্থনীতিতে কৃষি কেবল একটি জীবিকা নয়, এটি এদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনরেখা। বিগত কয়েক দশকে উন্নত বীজ, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং সরকারি বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের (যেমন— প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা বা কিষাণ ক্রেডিট কার্ড) মাধ্যমে কৃষিতে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং মাটির ক্ষয়িষ্ণু উর্বরতা আজও ভারতীয় কৃষির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় বর্তমানে সরকার ‘চিরহরিৎ বিপ্লব’ (Evergreen Revolution) এবং জৈব কৃষির (Organic Farming) ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে এবং কৃষিজাত শিল্পের প্রসার ঘটালে রাজ্য তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

ভারতের কৃষি: গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি প্রশ্নোত্তর:

১. ভারতে সবুজ বিপ্লবের জনক কাকে বলা হয়?

উত্তর: এম. এস. স্বামীনাথন।

২. ভারতের কোন রাজ্যকে ‘চিনির বাটি’ বলা হয়?

উত্তর: উত্তরপ্রদেশ।

৩. পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলাকে ‘ধানের গোলা’ বলা হয়?

উত্তর: পূর্ব বর্ধমান।

৪. ভারতের প্রথম জিআই ট্যাগ (GI Tag) প্রাপ্ত পণ্য কোনটি?

উত্তর: দার্জিলিং চা (২০০৪ সালে)।

৫. ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য কী?

উত্তর: ধান।

৬. ‘অপারেশন ফ্লাড’ (Operation Flood) কর্মসূচিটি কিসের সঙ্গে যুক্ত?

উত্তর: দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি (শ্বেত বিপ্লব)।

৭. ভারতের কোন রাজ্য কফি উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে?

উত্তর: কর্ণাটক।

৮. রেশম চাষকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় কী বলা হয়?

উত্তর: সেরিকালচার (Sericulture)।

৯. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মাটি কোন চাষের জন্য সবথেকে উপযোগী?

উত্তর: তুলা চাষ।

১০. ভারতের কেন্দ্রীয় ধান গবেষণা কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: কটক (ওড়িশা)।

১১. গম উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্য প্রথম স্থান অধিকার করে?

উত্তর: উত্তরপ্রদেশ।

১২. ভারতের কোন রাজ্যকে ‘মশলার বাগান’ বলা হয়?

উত্তর: কেরালা।

১৩. ‘ঝুম’ (Jhum) কী?

উত্তর: উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি প্রচলিত স্থানান্তর কৃষি পদ্ধতি।

১৪. ভারতের কেন্দ্রীয় আলু গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: শিমলা (হিমাচল প্রদেশ)।

১৫. ভারতে হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনে কোন রাজ্য প্রথম?

উত্তর: পাঞ্জাব।

১৬. জাতীয় দুগ্ধ গবেষণা ইনস্টিটিউট (NDRI) কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: কার্নাল (হরিয়ানা)।

১৭. হলুদ বিপ্লব (Yellow Revolution) কিসের সঙ্গে যুক্ত?

উত্তর: তৈলবীজ উৎপাদন।

১৮. পশ্চিমবঙ্গ কোন ফসল উৎপাদনে ভারতে প্রথম স্থান অধিকার করে?

উত্তর: ধান এবং পাট।

১৯. আর্দ্র কৃষিতে প্রধানত কোন ফসলের চাষ হয়?

উত্তর: ধান।

২০. চায়ের শহর (Tea City of India) কাকে বলা হয়?

উত্তর: ডিব্রুগড় (অসম)।

২১. সবুজ বিপ্লবের প্রভাব কোন ফসলের ওপর সবথেকে বেশি পড়েছিল?

উত্তর: গম।

২২. ভারতের কোন রাজ্য রবার উৎপাদনে প্রথম?

উত্তর: কেরালা।

২৩. ICAR (Indian Council of Agricultural Research)-এর সদর দপ্তর কোথায়?

উত্তর: নতুন দিল্লি।

২৪. নীল বিপ্লব (Blue Revolution) কোন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত?

উত্তর: মাছ উৎপাদন।

২৫. ভারতে অর্থকরী ফসল (Cash Crop) হিসেবে পরিচিত কোনটি?

উত্তর: আখ, চা, তুলা।

২৬. ভারতের বৃহত্তম মিলেট (বাজরা, জোয়ার) উৎপাদনকারী রাজ্য কোনটি?

উত্তর: রাজস্থান।

২৭. পাহাড়ি অঞ্চলে মাটি ক্ষয় রোধে কোন পদ্ধতিতে চাষ করা হয়?

উত্তর: ধাপ চাষ (Terrace Farming)।

২৮. কিসান ক্রেডিট কার্ড (KCC) যোজনা কত সালে শুরু হয়?

উত্তর: ১৯৯৮ সালে।

২৯. আঙুর চাষকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় কী বলা হয়?

উত্তর: ভিটিকালচার (Viticulture)।

৩০. কোন রাজ্য ভারতের ‘ফলের ঝুড়ি’ নামে পরিচিত?

উত্তর: হিমাচল প্রদেশ।