ভূমিকা:
পশ্চিমবঙ্গের বুকে যে কটি জেলা নিজের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত, তার মধ্যে বর্ধমান অন্যতম। প্রাচীনকালে আদিম মানুষের পদচিহ্ন থেকে শুরু করে মুঘল আমলের রাজকীয় দ্বন্দ্ব, বর্ধমান রাজপরিবারের স্বর্ণযুগ এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই মাটির অবদান অনস্বীকার্য। আজকের দিনে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে জেলাটি পূর্ব ও পশ্চিমে বিভক্ত হলেও, অবিভক্ত বর্ধমান অঞ্চলের ইতিহাস আজও প্রতিটি বাঙালির মনে এক আলাদা আবেগ তৈরি করে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা প্রাচীন ‘রাঢ়’ অঞ্চল থেকে শুরু করে আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো পর্যন্ত বর্ধমান জেলার সমগ্র ইতিহাস অত্যন্ত সহজ ও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

‘বর্ধমান’ নামের উৎপত্তি ও প্রাচীন ইতিহাস:
বর্ধমান শব্দটির একটি গভীর ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। এই অঞ্চলের নামকরণের পেছনে মূলত জৈন ধর্ম এবং প্রাচীন ভৌগোলিক অবস্থানের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।
জৈন ধর্ম এবং মহাবীর বর্ধমান:
অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে, খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে জৈন ধর্মের ২৪তম তথা শেষ তীর্থঙ্কর মহাবীর বর্ধমান ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলে কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই এই জনপদের নাম হয় বর্ধমান। জৈনদের প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ ‘আচারাঙ্গ সূত্র’-এ এই অঞ্চলের উল্লেখ ‘রাঢ়া’ বা ‘লাঢ়া’ দেশ হিসেবে পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত দুর্গম এবং বন্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাচীন রাঢ় অঞ্চলের অংশ:
প্রাচীন বাংলার ভৌগোলিক মানচিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বর্তমান বর্ধমান জেলাটি প্রাচীন ‘রাঢ়’ অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বরাহমিহিরের বিখ্যাত ‘বৃহৎসংহিতা’ গ্রন্থে এই অঞ্চলের আদি অধিবাসীদের এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ মেলে। উর্বর পলিমাটি এবং নদীমাতৃক পরিবেশের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই এখানে মানব সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।
প্রাগৈতিহাসিক যুগ ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার:
বর্ধমান যে কতখানি প্রাচীন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে এখানকার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা হাজার হাজার বছরের পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে।
মঙ্গলকোটের খননকার্য:
পূর্ব বর্ধমানের অজয় ও কুণুর নদীর সংগমস্থলে অবস্থিত মঙ্গলকোট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এখানে প্রত্নতাত্ত্বিকদের দীর্ঘ খননকার্যের ফলে তাম্রাশ্মীয় যুগের (Chalcolithic Age) সভ্যতার হদিস মিলেছে। মাটির পাত্র, প্রাচীন মুদ্রা, এবং আদিম মানুষের ব্যবহৃত হাতিয়ার প্রমাণ করে যে আজ থেকে প্রায় ৩,০০০-৩,৫০০ বছর আগেও এখানে একটি সুসংগঠিত নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
আউশগ্রামের ভরতপুর:
মঙ্গলকোটের পাশাপাশি আউশগ্রামের ভরতপুর অঞ্চলেও খননকার্য চালিয়ে গুপ্ত যুগ এবং পাল যুগের বহু প্রাচীন নিদর্শন ও বৌদ্ধ স্তূপের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সমস্ত আবিষ্কার প্রমাণ করে যে মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল রাজাদের আমলে বর্ধমান বাংলার একটি প্রধান বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল।
মধ্যযুগ, মুঘল শাসন এবং ঐতিহাসিক সংঘাত:
সুলতানি আমল এবং পরবর্তীকালে মুঘল সাম্রাজ্যের সময়ে বর্ধমান দিল্লির শাসকদের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও প্রশাসনিক ‘মহল’ বা পরগনা হিসেবে পরিচিতি পায়। সম্রাট আকবরের সময়ে লিখিত আবুল ফজলের বিখ্যাত ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থে এই অঞ্চলের রাজস্ব ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
পীর বাহরামের আগমন:
সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে দিল্লির দরবার থেকে সুফি সাধক পীর বাহরাম বর্ধমান অঞ্চলে আসেন। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব এই অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। আজও বর্ধমান শহরে তাঁর পবিত্র মাজার অবস্থিত, যা সর্বধর্মের মানুষের কাছে একটি পবিত্র স্থান।
শের আফগান, কুতুবউদ্দিন এবং মেহেরউন্নিসা:
মুঘল ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর এবং রক্তক্ষয়ী অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে এই বর্ধমান শহরের মাটিতে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের বাংলার সুবাদার বা প্রতিনিধি ছিলেন শের আফগান (যিনি ছিলেন রূপসী মেহেরউন্নিসার প্রথম স্বামী)।
জাহাঙ্গীর মেহেরউন্নিসাকে পাওয়ার তীব্র কামনায় তাঁর বিশ্বস্ত কেল্লাদার কুতুবউদ্দিন খাঁ-কে বর্ধমান-এ পাঠান। ১৬০৭ সালে বর্ধমান রাজবাড়ির অদূরে শের আফগান এবং কুতুবউদ্দিনের মধ্যে এক মারাত্মক যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে দুজনেই নিহত হন। পরবর্তীতে মেহেরউন্নিসাই মুঘল সাম্রাজ্যের বিখ্যাত সম্রাজ্ঞী ‘নূরজাহান’ নামে পরিচিত হন। আজও বর্ধমান রেল স্টেশনের কাছে শের আফগান এবং কুতুবউদ্দিনের সমাধি পাশাপাশি অবস্থান করছে, যা ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী।
বর্ধমান রাজবংশের গৌরবময় অধ্যায় (১৬৮৯ – ১৯৫৫):
বর্ধমান জেলার ইতিহাসকে যদি কোনো একটি পরিবার সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে থাকে, তবে তা হলো বিখ্যাত বর্ধমান রাজপরিবার। এই রাজবংশের শাসনকালকে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও স্থাপত্যশৈলীর ‘স্বর্ণযুগ’ বলা চলে।
রাজবংশের প্রতিষ্ঠা:
১৬৮৯ সালে পাঞ্জাবের লাহোর থেকে কোট্লিমল পরিবারের ব্যবসায়ী আবু রায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এই বাংলায় আসেন। তিনি নিজের সততা ও বুদ্ধিমত্তার জোরে মুঘল শাসকদের নজর কাড়েন এবং এই অঞ্চলের জমিদারি লাভ করেন। এভাবেই সূচনা হয় বিখ্যাত বর্ধমান রাজবংশের।
কীর্তিচাঁদ রায় ও জমিদারি বিস্তার (১৭০২-১৭৪০):
আবু রায়ের বংশধর কীর্তিচাঁদ রায় ছিলেন অত্যন্ত পরাক্রমী রাজা। তিনি পার্শ্ববর্তী মনোহরশাহী, ভূরশুট (হুগলি) সহ বিভিন্ন অঞ্চল আক্রমণ করে নিজের সাম্রাজ্যের সীমানা বহুগুণ বাড়িয়ে নেন। তাঁর সময়েই কবি ঘনরাম চক্রবর্তী তাঁর বিখ্যাত ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্য রচনা করেছিলেন, যা এই অঞ্চলের সংস্কৃতির এক অমূল্য দলিল।
তিলকচাঁদ ও মহাতাব চাঁদের আমল:
- মহারাজাধিরাজ তিলকচাঁদ: মুঘল সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে তিনি ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি পান এবং বর্ধমান রাজকে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা এনে দেন।
- মহারাজা মহাতাব চাঁদ (১৮৩২-১৮৭৯): তিনি ছিলেন এই বংশের সবচেয়ে আধুনিক ও সমাজ সংস্কারক রাজা। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ আন্দোলনকে সামাজিকভাবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের (Sepoy Mutiny) সময় তিনি ব্রিটিশ সরকারকে সৈন্য ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, যার ফলে ব্রিটিশরা তাঁকে ‘হিজ হাইনেস’ উপাধিতে ভূষিত করে।
রাজবংশের অবসান:
বিজয়চাঁদ মহাতাব এবং পরবর্তীতে উদয়চাঁদ মহাতাব ছিলেন এই বংশের শেষ সারির শাসক। ১৯৫৫ সালে ভারত সরকার কর্তৃক জমিদারি প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করার পর এই দীর্ঘ আড়াইশো বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং রাজবাড়ির সম্পত্তি জনগণের উদ্দেশ্যে ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে উৎসর্গ করা হয়।

ব্রিটিশ আমল ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩):
১৭৬০ সালের একটি চুক্তির মাধ্যমে বাংলার নবাব মীর কাশিম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে মেদিনীপুর ও চট্টগ্রামের সাথে বর্ধমান জেলারও রাজস্ব আদায়ের অধিকার হস্তান্তর করেন। এর ফলে দিওয়ানি লাভের আগেই ব্রিটিশরা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে থাবা বসায়।
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস যখন ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ (Permanent Settlement) চালু করেন, তখন বর্ধমান রাজের ওপর আকাশছোঁয়া রাজস্বের বোঝা চাপানো হয়। জমিদারি যাতে নিলামে না চড়ে, তার জন্য তৎকালীন মহারাজা তেজচন্দ্র এক অভিনব পথ বের করেন, যা ইতিহাসে ‘পত্তনি প্রথা’ নামে পরিচিত। এর অধীনে মূল জমিদারিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সাব-লিজে দেওয়া হতো, যা ব্রিটিশদের সূর্যাস্ত আইনের হাত থেকে জমিদারি রক্ষা করতে সাহায্য করেছিল।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বর্ধমানের অবদান:
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বর্ধমান জেলার বিপ্লবীদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। দেশের মুক্তির জন্য এই মাটির সন্তানরা হাসিমুখে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।
- বিপ্লবী রাসবিহারী বসু: পূর্ব বর্ধমানের রায়না ব্লকের সুবলদহ গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মহান বিপ্লবী ভারতের সশস্ত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন। লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা হামলা থেকে শুরু করে বিদেশে (জাপানে) গিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ (INA) গঠনের মূল কান্ডারি ছিলেন তিনি।
- ড. রাসবিহারী ঘোষ: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক সুরাট অধিবেশনে (১৯০৭) যিনি চরমপন্থী ও নরমপন্থীদের দ্বন্দ্বের মাঝে সভাপতিত্ব করেছিলেন, সেই বিখ্যাত আইনজীবী ও শিক্ষাবিদ ড. রাসবিহারী ঘোষ ছিলেন এই জেলারই সন্তান।
- বটুনেশ্বর দত্ত: শহীদ ভগত সিংহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাসেম্বলিতে বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত বিপ্লবী বটুনেশ্বর দত্তের পৈতৃক বাড়ি ছিল এই জেলায়।
২০১৭ সালের জেলা বিভাজন: পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান:
২০১৭ সালের ৭ই এপ্রিল প্রশাসনিক কাজের সুবিধা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অবিভক্ত বর্ধমান জেলাকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। এর ফলে দুটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রশাসনিক জেলা আত্মপ্রকাশ করে—পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান। নিচে এই দুই জেলার মহকুমা, ব্লক, পৌরসভা এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সম্পূর্ণ প্রশাসনিক খতিয়ান তুলে ধরা হলো:
পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রশাসনিক বিন্যাস:
পূর্ব বর্ধমান জেলার সদর দপ্তর হলো ঐতিহাসিক বর্ধমান শহর। এই জেলাটি মূলত গ্রামীণ এবং কৃষিপ্রধান এলাকা নিয়ে গঠিত।
- মহকুমা (Sub-Divisions): পূর্ব বর্ধমান জেলাকে মোট ৪টি প্রশাসনিক মহকুমায় ভাগ করা হয়েছে: ১. বর্ধমান সদর (উত্তর) ২. বর্ধমান সদর (দক্ষিণ) ৩. কালনা ৪. কাটোয়া
- ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতি (Blocks): এই জেলায় সর্বমোট ২৩টি ব্লক রয়েছে। ব্লকগুলি মহকুমা অনুযায়ী নিচে বিন্যস্ত করা হলো:
- বর্ধমান সদর (উত্তর): বর্ধমান-১, বর্ধমান-২, ভাতার, আউশগ্রাম-১, আউশগ্রাম-২, গলসি-১ এবং গলসি-২।
- বর্ধমান সদর (দক্ষিণ): খণ্ডঘোষ, রায়না-১, রায়না-২, জামালপুর, মেমারি-১ এবং মেমারি-২।
- কালনা মহকুমা: কালনা-১, কালনা-২, মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী-১ এবং পূর্বস্থলী-২।
- কাটোয়া মহকুমা: কাটোয়া-১, কাটোয়া-২, কেতুগ্রাম-১, কেতুগ্রাম-২ এবং মঙ্গলকোট।
- পৌরসভা (Municipalities): শহরাঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্বে এখানে ৬টি পৌরসভা রয়েছে—বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, মেমারি, দাইঁহাট এবং গুসকরা।
- থানা (Police Stations): আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের অধীনে ৩০টিরও বেশি থানা রয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রশাসনিক বিন্যাস:
পশ্চিম বর্ধমান জেলার সদর দপ্তর হলো আসানসোল। এটি মূলত শিল্পাঞ্চল, খনি এবং নগরকেন্দ্রিক এলাকা নিয়ে গঠিত।
- মহকুমা (Sub-Divisions): এই জেলাটিতে মাত্র ২টি মহকুমা রয়েছে: ১. আসানসোল সদর ২. দুর্গাপুর
- ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতি (Blocks): এই জেলায় মোট ৮টি ব্লক রয়েছে:
- আসানসোল মহকুমা: বারাবনি, জামুরিয়া, রানিগঞ্জ এবং সালানপুর।
- দুর্গাপুর মহকুমা: অণ্ডাল, ফরিদপুর-দুর্গাপুর, কাঁকসা এবং পাণ্ডবেশ্বর।
- পৌরনিগম (Municipal Corporations): এই জেলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কোনো সাধারণ পৌরসভা নেই। বড় নগর অঞ্চলের কারণে এখানে ২টি বিশাল পৌরনিগম রয়েছে: ১. আসানসোল পৌরনিগম (Asansol Municipal Corporation) ২. দুর্গাপুর নগর নিগম (Durgapur Municipal Corporation)
পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা:
বর্ধমান অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই কাঠামোটি স্থানীয় স্তরে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে:
- গ্রাম পঞ্চায়েত (নিম্ন স্তর): এটি সরাসরি গ্রামীণ স্তরে কাজ করে। দুই জেলা মিলিয়ে বর্তমানে সাড়ে তিনশোরও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।
- পঞ্চায়েত সমিতি (মাঝারি স্তর): এটি ব্লক স্তরে কাজ করে। পূর্ব বর্ধমান-এ ২৩টি এবং পশ্চিম বর্ধমান-এ ৮টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।
- জিলা পরিষদ (শীর্ষ স্তর): এটি জেলা স্তরের সর্বোচ্চ গ্রামীণ প্রশাসনিক বডি। বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান জিলা পরিষদ এবং পশ্চিম বর্ধমান জিলা পরিষদ আলাদাভাবে স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
বিচার বিভাগীয় ও পুলিশ প্রশাসন (Judiciary & Police):
- আদালত: পূর্ব ও পশ্চিম দুই জেলার জন্যই পৃথক জেলা ও দায়রা আদালত (District & Sessions Court) রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান-এর মূল আদালত বর্ধমান শহরে এবং পশ্চিম বর্ধমান-এর মূল আদালত আসানসোলে অবস্থিত। এছাড়া কালনা ও কাটোয়াতেও মহকুমা আদালত রয়েছে।
- পুলিশ প্রশাসন: পূর্ব বর্ধমান জেলার সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (SP)। অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমান একটি অত্যন্ত জনবহুল ও শিল্পপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট (ADPC) গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হলেন একজন পুলিশ কমিশনার (CP)।
রাজনৈতিক ও সংসদীয় কাঠামো:
প্রশাসনিক সীমানার পাশাপাশি বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক বা নির্বাচনী এলাকাগুলোর বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো, যা ইন্টারভিউতে প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়:
- লোকসভা কেন্দ্র (Parliamentary Constituencies): এই অঞ্চলের প্রধান লোকসভা কেন্দ্রগুলি হলো—বর্ধমান-দুর্গাপুর, বর্ধমান পূর্ব এবং আসানসোল। (এছাড়াও বোলপুর ও বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের কিছু অংশ এই জেলার ভৌগোলিক সীমানার ব্লকের মধ্যে পড়ে)।
- বিধানসভা কেন্দ্র (Assembly Constituencies): অবিভক্ত বর্ধমান জেলায় মোট ২৫টি বিধানসভা আসন ছিল। বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান-এ ১৬টি এবং পশ্চিম বর্ধমান-এ ৯টি বিধানসভা আসন রয়েছে।
প্রশাসনিক কাজের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবং শিল্প ও কৃষি অঞ্চলকে আলাদা করে সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৭ই এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে অবিভক্ত বর্ধমান জেলাকে দ্বিখণ্ডিত করে দুটি নতুন জেলা গঠন করে।
ভৌগোলিক রূপরেখা ও নদীমাতৃক পরিবেশ:
ভৌগোলিক দিক থেকে এই অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৈচিত্র্যময় এলাকা।
- ভূপ্রকৃতি: পশ্চিম অংশটি (আসানসোল-দুর্গাপুর) ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ হওয়ায় ল্যাটেরাইট বা লাল মাটিতে গঠিত এবং কিছুটা ঢেউ খেলানো। অন্যদিকে, পূর্ব অংশটি গাঙ্গেয় সমভূমির উর্বর পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- নদনদী: বর্ধমান জেলার বুক চিরে বয়ে গেছে একাধিক নদী। এর মধ্যে প্রধান হলো দামোদর নদী। অতীতে এই নদীর ভয়াবহ বন্যার কারণে একে ‘বাংলার দুঃখ’ বলা হতো, তবে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) গঠনের পর পরিস্থিতি বদলেছে। এছাড়া উত্তরে রয়েছে অজয় নদী (যা বীরভূমের সাথে সীমানা নির্ধারণ করে) এবং পূর্বে রয়েছে পবিত্র ভাগীরথী নদী (যা নদীয়া জেলা থেকে একে আলাদা করেছে)।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: কৃষি ও শিল্পের মেলবন্ধন:
সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে এই জেলাটি অর্থনীতিতে এক বিশাল স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে, কারণ এখানে একদিকে যেমন রয়েছে সোনা ফলানো কৃষিজমি, তেমনই অন্যদিকে রয়েছে ভারী শিল্প ও খনি।
বাংলার শস্যভাণ্ডার:
পূর্ব বর্ধমান জেলাকে অত্যন্ত গর্বের সাথে ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ (Granary of Bengal) বলা হয়। এখানকার উর্বর পলিমাটি এবং উন্নত সেচ খালের সাহায্যে বছরে রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়, যা সমগ্র রাজ্যের চালের চাহিদার একটা বড় অংশ পূরণ করে। ধান ছাড়াও এখানকার আলু এবং পেঁয়াজ চাষ বেশ বিখ্যাত।
ভারতের রুঢ় — দুর্গাপুর:
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর শহরকে ‘ভারতের রুঢ়’ (Ruhr of India) বলা হয়। জার্মানির রুর অঞ্চলের মতো এখানেও কয়লা এবং লৌহ-ইস্পাত শিল্পের অভূতপূর্ব কেন্দ্রীভবন ঘটেছে। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) এবং আসানসোলের ইস্কো (IISCO) কারখানা ভারতের শিল্প মানচিত্রে এই জেলার নাম উজ্জ্বল করেছে। এছাড়াও ১৭৭৪ সালে রানিগঞ্জেই ভারতের প্রথম কয়লা খনি থেকে বাণিজ্যিক স্তরে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছিল।
সংস্কৃতি, উৎসব এবং বিশ্ববিখ্যাত মিষ্টির ইতিহাস:
বর্ধমান শুধু যুদ্ধ বা শিল্পের ক্ষেত্র নয়, এটি বাংলার লোকসংস্কৃতি এবং রসনা তৃপ্তির এক অন্যতম পীঠস্থান।
জিআই ট্যাগ (GI Tag) প্রাপ্ত মিষ্টি:
এই জেলার দুটি মিষ্টি সারা বিশ্বে বাঙালির পরিচয় বহন করে:
- সীতাভোগ ও মিহিদানা: ১৯০৪ সালে ভারতের তৎকালীন বড়লাট লর্ড কার্জন যখন বর্ধমান পরিদর্শনে আসেন, তখন তাঁর আপ্যায়নের জন্য মহারাজা বিজয়চাঁদ মহাতাবের নির্দেশে বিখ্যাত ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগ এই দুটি অনন্য মিষ্টি তৈরি করেন। এই মিষ্টি দুটি বর্তমানে জিআই ট্যাগ লাভ করেছে।
- শক্তিগড়ের ল্যাংচা: ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত শক্তিগড়ের ল্যাংচা ভ্রমণপিপাসু ও খাদ্যরসিকদের কাছে এক অন্যতম আকর্ষণ।
লোকসংস্কৃতি ও মেলা:
কাটোয়া এবং মঙ্গলকোট অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই ‘কাঠি নাচ’, ‘আলকাপ’, ‘ভাদু’ এবং ‘টুসু’ গানের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। এছাড়া কালনার বিখ্যাত ১০৮ শিবমন্দির এবং টেরাকোটার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দেখতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান। কাটোয়া হলো বৈঞ্চব সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র, কারণ এখানেই শ্রীচৈতন্যদেব কেশব ভারতীর কাছে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
বর্ধমানের বিখ্যাত ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান:
আপনি যদি এই জেলায় ঘুরতে আসেন বা ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এই স্থানগুলোর নাম অবশ্যই নোট করে রাখবেন:
১. কার্জন গেট (বিজয় তোরণ): ১৯০২ সালে লর্ড কার্জনের আগমনকে স্মরণীয় করতে বর্ধমান শহরের কেন্দ্রস্থলে রাজপরিবার এটি নির্মাণ করে।
২. ১০৮ শিবমন্দির: নবাবহাটে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরগুচ্ছ ১৮০৯ সালে মহারানি বিষণকুমারী জপমালার আকারে বৃত্তাকারে তৈরি করিয়েছিলেন।
৩. কালনার প্রতাপেশ্বর মন্দির: এটি টেরাকোটা বা পোড়ামাটির কাজের এক অপূর্ব নিদর্শন।
৪. মেঘনাদ সাহা তারামণ্ডল: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অবস্থিত এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যানেটোরিয়াম।
কালজয়ী ব্যক্তিত্ব যাঁরা বর্ধমানের মাটিকে ধন্য করেছেন:
এই মাটির কৃতি সন্তানরা সাহিত্য, রাজনীতি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্বমঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছেন:
- কাজী নজরুল ইসলাম: ভারতের চুরুলিয়া গ্রামে (বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান) জন্মগ্রহণ করেছিলেন আমাদের প্রিয় বিদ্রোহী কবি ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর কাজী নজরুল ইসলাম।
- কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক: বিখ্যাত কবি ও শিক্ষক, যাঁর কবিতায় বাংলার পল্লী প্রকৃতির রূপ দারুণভাবে ফুটে উঠেছে (জন্ম: কোগ্রাম)।
- ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: তাঁর পৈতৃক ভিটে ছিল এই জেলারই চুপী গ্রামে।
- মহানায়ক উত্তম কুমার: অনেকেরই অজানা যে, বাংলা চলচ্চিত্রের ম্যাটিনি আইডল মহানায়ক উত্তম কুমারের আদি পৈতৃক বাড়ি ছিল পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার নড়িয়া গ্রামে।
উপসংহার:
আজকের এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, বর্ধমান জেলার ইতিহাস কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজা বা রাজবংশের কাহিনী নয়, এটি হলো হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার বিবর্তন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ, সোনা ফলানো কৃষিজমি আর আধুনিক ভারী শিল্পের এক অপূর্ব কোলাজ। প্রশাসনিক কারণে আজ জেলা দুটি ভাগে বিভক্ত হলেও ভৌগোলিক ও ঐতিহ্যের সুতোয় তারা আজও একে অপরের সাথে আবদ্ধ। আপনি যদি WBSSC বা যেকোনো সরকারি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, তবে এই তথ্যগুলো আপনার আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ইন্টারভিউয়ের শেষ মুহূর্তের কুইক রিভিশন: 10 SAQ
১. প্রশ্ন: অবিভক্ত বর্ধমান জেলাটি কবে এবং কেন বিভক্ত হয়েছিল?
- উত্তর: ৭ই এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে প্রশাসনিক কাজের সুবিধা এবং গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চলের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলাটি বিভক্ত হয়েছিল।
২. প্রশ্ন: পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার সদর দপ্তরগুলির নাম কী?
- উত্তর: পূর্ব বর্ধমানের সদর দপ্তর বর্ধমান শহর এবং পশ্চিম বর্ধমানের সদর দপ্তর আসানসোল।
৩. প্রশ্ন: পূর্ব বর্ধমান জেলাকে ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ বলা হয় কেন?
- উত্তর: দামোদর ও অন্যান্য নদীর উর্বর পলিমাটি এবং উন্নত সেচ ব্যবস্থার কারণে এই জেলায় পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হয়, তাই একে ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ বলে।
৪. প্রশ্ন: পশ্চিম বর্ধমান জেলাটি কীসের জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: পশ্চিম বর্ধমান জেলাটি মূলত খনিজ সম্পদ (কয়লা), ভারী শিল্প এবং কলকারখানার জন্য বিখ্যাত। এর দুর্গাপুর শহরকে ‘ভারতের রুর’ বলা হয়।
৫. প্রশ্ন: পূর্ব বর্ধমান জেলায় মোট কয়টি মহকুমা ও ব্লক রয়েছে?
- উত্তর: পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৪টি মহকুমা (বর্ধমান সদর উত্তর, সদর দক্ষিণ, কালনা, কাটোয়া) এবং ২৩টি ব্লক রয়েছে।
৬. প্রশ্ন: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় কয়টি মহকুমা ও ব্লক রয়েছে?
- উত্তর: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ২টি মহকুমা (আসানসোল ও দুর্গাপুর) এবং ৮টি ব্লক রয়েছে।
৭. প্রশ্ন: পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের স্থানীয় শহুরে শাসনব্যবস্থায় মূল তফাত কী?
- উত্তর: পূর্ব বর্ধমানের শহরগুলি পৌরসভা (৬টি) দ্বারা পরিচালিত হয়, অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমানের প্রধান শহরগুলি বড় হওয়ায় সেগুলি পৌরনিগম বা কর্পোরেশন (আসানসোল ও দুর্গাপুর) দ্বারা পরিচালিত হয়।
৮. প্রশ্ন: বর্ধমান জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান ৩টি নদীর নাম কী?
- উত্তর: দামোদর, অজয় এবং ভাগীরথী (হুগলি) নদী।
৯. প্রশ্ন: পশ্চিম বর্ধমানের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিশেষ পুলিশ প্রশাসনটির নাম কী?
- উত্তর: আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট (ADPC)।
১০. প্রশ্ন: ভারতের প্রথম বাণিজ্যিক কয়লা খনিটি কোথায় অবস্থিত?
- উত্তর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ অঞ্চলে (১৭৭৪ সালে এখানে প্রথম কয়লা উত্তোলন শুরু হয়)।
বর্ধমান জেলার এই গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে তৈরি আমাদের এই বিশেষ পোস্টটি আপনার কেমন লাগল? কোনো তথ্য বা প্রশ্ন বাদ পড়ে থাকলে নিচে Comment করে আমাদের জানান। আপনার ইন্টারভিউ এবং ভবিষ্যতের সমস্ত পরীক্ষার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা!
